হিমালয়ের কনকনে শীতল হাওয়ায় জবুথবু পঞ্চগড়ের মানুষ

রংপুর

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ বেশ কয়েকদিন বিরতির পর আবারও তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে পঞ্চগড়ে। মঙ্গলবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। দিনের বেলা রোদের কারণে শীত কম অনুভূত হলেও দুপুরের পর থেকেই উত্তরের হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় রাত বাড়তেই শীতে কাবু হচ্ছে শীতার্ত মানুষগুলো। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত মাঝারী থেকে ভারী কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক।

কনকনে শীতল হাওয়ার কারণে সন্ধ্যার পরই ফাঁকা হয়ে পড়ছে বাজার ঘাট। কনকনে শীতে শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে কিছু শীতবস্ত্র জেলায় পৌছেছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। আর বেসরকারি পর্যায়ের শীতবস্ত্র বিতরণ এখনও শুরু হয়নি।

সোমবার সারাদিনই ছিল মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। সেই সাথে ছিল উত্তরের হিম শীতল বাতাস। বিকেল হতেই ফাঁকা হয়ে যেতে শুরু করে বাজারঘাট। বিকেল থেকেই অনেককে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়নি। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে সোমবার ভারী কুয়াশার দেখা মেলেনি।

তবে মধ্যরাতের পর মেঘ কেটে গেলে শুরু হয় ঘন কুয়াশা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সূর্যের মূখ দেখা যায় দুপুরের দিকে। আবার দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরই শুরু হয় উত্তরের হীম শীতল বাতাস।

এদিকে দিনে রোদ আর রাতের দিকে প্রচন্ড শীতের কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালমূখী হচ্ছে অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

এ কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, সর্দি কাশি, শ্বাষকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ শীতজনীত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।

শীত বাড়ার সাথে সাথে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন। এ সময়টাতে তিনি শিশু ও বৃদ্ধরা যেন শীতের মধ্যে বের না হয় এবং বের হলে পর্যন্ত শীতবস্ত্র পরিধান করার পরামর্শ দেন তিনি।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান বলেন, ইতোমধ্যে পঞ্চগড় জেলার জন্য ২১ হাজার ২শ কম্বল, পাঁচ হাজার শুকনো খাবার ও কম্বল কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কম্বল ও শুকনো খাবার ইতোমধ্যে পাঁচ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নগদ টাকার কম্বল ক্রয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য