দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার পূর্ব উপকূলে ১৪ ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে তারা ভেনেজুয়েলা থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো যাচ্ছিল, রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগো প্রথম মৃতদেহটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলা ওই বিবৃতি দেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তত ৪০ হাজার নাগরিক ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশ অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও সরকারি পরিষেবার ঘাটতির কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানাচ্ছে রয়টার্স।

প্রায়ই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আরোহীসহ ছোট নৌকায় ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা উপকূলীয় প্রতিবেশী ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় পালানোর চেষ্টা করেন। অধিকাংশ সময় এসব নৌকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি ও খাবার থাকে না।

গত বছর এরকম দুটি নৌকা ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে প্রতিবেশী দেশটির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর সাগরে হারিয়ে যায়।

এবারের ঘটনায় মৃতদেহগুলো ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর গুইরিয়া থেকে সাত নটিক্যাল মাইল দূরে পাওয়া গেছে বলে ভেনেজুয়েলার সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার শেষ বিকালের দিকে ১১টি মৃতদেহ পাওয়া যায় আর রোববার দুইজন পুরুষ ও একজন নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এতে আরও বলা হয়, কেউ এদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জানায়নি।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনার সঙ্গে গুইরিয়ার অপরাধী গোষ্ঠীগুলো জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণহানির ঘটনাগুলো ৬ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার উত্তরাপূর্বাঞ্চলীয় সুক্রে রাজ্যের গুইরিয়া থেকে ছেড়ে আসা নৌকাটির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে; সেদিন ওই উপকূল থেকে ২০ জনের বেশি লোক রওনা হওয়ার পর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি বা তাদের কথা শোনাও যায়নি।

গত সপ্তাহে গুইরিয়া থেকে ছেড়ে আসা কোনো নৌকাকে বাধা দেয়নি তারা আর কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বলে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য