রেকর্ডকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক বার্ড ফ্লু-র কবলে পড়েছে জাপান। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের ২০ শতাংশের বেশি এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেক মুরগির মৃত্যুর পর কর্মকর্তারা আরও মুরগি মারার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

রোববার দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম জাপানের শিগা প্রিফেকচারে হিগাশিয়োমি শহরের একটি লেয়ার মুরগির খামারে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার খোঁজ পাওয়ার পর প্রায় ১১ হাজার মুরগি জবাই করে মাটিতে পুতে ফেলা হচ্ছে।

একই মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, কাগাওয়া প্রিফেকচারে আরেকটি প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, একমাস আগে এখানেই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম দেখা দিয়েছিল।

এখন দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ১০টিতে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৩০ লাখ মুরগি মারা হয়েছে।

জাপানের সব মুরগির খামারগুলোকে স্থাপনা জীবাণুমক্ত ও স্বাস্থ্যবিধি পরীক্ষা করার এবং বনের পাখিদের দূরে রাখার জন্য সঠিকভাবে জাল দিয়ে ঘিরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়।

এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ব্লার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ায় জার্মানিসহ সাতটি দেশ থেকে পোল্ট্রি আমদানি স্থগিত করেছে জাপান।

জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ডিম পাড়া লেয়ার মুরগির সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা ১৩ কোটি ৮০ লাখ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, জাপান ও প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় যে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়েছে তা বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি খামারগুলোতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া দুটি পৃথক অতি সংক্রামক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার (এইচপিএআই) একটি।

বন্য পাখির মাধ্যমে এই দুটিই এশিয়ায় আর একটি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য