সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ গত দুইদিন ধরে দেশে সর্বনি¤œ তাপমাত্রার রেকর্ড থেকে সরে এসেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। গতকাল সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। আর রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছিতে।

সোমবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আর উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের মানুষ। আকাশে মেঘ থাকার কারণে গত দুইদিন ধরে পঞ্চগড়ে তেমন একটা কুয়াশা চোখে পড়েনি। এদিকে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই।

গত শনিবার থেকে পঞ্চগড়ের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। এর মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও হয়েছে। রোববার সারাদিনই সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মেঘে ঢাকা ছিল গোটা আকাশ। এরপর ছিটেফোটা বৃষ্টির পর মেঘ কেটে দেখা যায় সূর্যের মুখ। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় উষ্ণতা ছড়ায়। দুপুরের পর বইতে শুরু করে উত্তরের হিমেল হাওয়া। এতে করে রোদ থাকলেও সূর্যের তেজ গায়ে লাগেনি। বেলা যত গড়িয়েছে ততই শীতে কাবু হয়েছে পঞ্চগড়ের মানুষরা। গ্রামের অনেক মানুষকে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে শীত জেঁকে বসার সাথে সাথে জেঁকে বসেছে পুরনো শীতবস্ত্রের মৌসূমি দোকানগুলো। তবে করোনার অজুহাতে গত বছরের চেয়ে তারা দাম হাকাচ্ছে দ্বিগুন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, করোনার কারণে এবার বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় আসেনি। ঢাকার পুরনো কাপড়ের ব্যবসায়ীরা গত বছরের জমে থাকা কাপড়ের গাইড বিক্রয় করছে। এসব কাপড়ের গাইডের অর্ধেকের বেশি কাপড় বিক্রির অযোগ্য। তাই বেশি দামে পুরনো কাপড় বিক্রয় করতে হচ্ছে। জেলা শহরের সেন্ট্রাল প্লাজার গার্মেন্টসগুলোতে চায়না জ্যাকেট বিক্রয় হচ্ছে চড়া দামে। গত বছরের চেয়ে জ্যাকেট প্রতি পাঁচশ বা তারও বেশি দরে বিক্রয় করছে তারা। তাদের দাবি চীন থেকে বিমানে করে এসব জ্যাকেট আসায় এগুলোর দাম বেড়ে গেছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিনই সর্দি কাশি, শ্বাষকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ শীতজনীত রোগে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে রোগির সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। তবে এখনও পুরো শীত না নামায় অবস্থা তেমন একটা জটিল না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকে হাসপাতালে আসছে। এই সময়টাতে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি সমস্যায় ভোগে। এজন্য তাদে ব্যাপারে আরও সাবধানতা অবলম্বনের আহবান জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য