মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড়ের বোদায় কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। গত ২৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ টাকা কেজির মুলা এখন বিক্রি করা হচ্ছে ২ টাকা কেজি দরে। মুলা’র আমদানী বেড়ে যাওয়ায় দাম কম বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও কৃষকেরা পড়েছেন হতাশায়।

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এসব বাজারে প্রতি কেজি মুলা কৃষকরা বিক্রি করছেন ২ টাকা কেজি দরে। আবার পাইকারী বাজারে মুলা এখন ৪০ কেজির বস্তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে পরিবহন খরচও উঠছে কৃষকের।

বিক্রেতারা বলছেন, ২৫ দিন আগেও ৫০ টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হয়েছে। শীতকালীন সবজি হিসেবে মুলার চাহিদা থাকায় দামও বেশি ছিল। এখন বাজারে সকল সবজির পাশাপাশি মুলার যোগানও বেড়েছে। ফলে মুলার দাম কমে ২ টাকা কেজিতে নেমেছে। কৃষকরা বলছেন, শুরুতে দাম ভালো পেলেও হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

কয়েক দফা বন্যার কারণে এমনিতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই এবার সবজি উৎপাদনে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলার চন্দবাড়ি ইউনিয়নের সমশের নগর গ্রামের কৃষক শাহাজাহান ও ইব্রাহিম বলেন, এবার ১ বিঘা জমিতে মুলা চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। এখন উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়েই চিন্তায় আছি। বোদা বাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম বলেন, বাজারে এখন সব সবজি পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যান্য সবজির দাম বেশি হলেও মুলার দাম কম। বোদা পৌর শহরের সাতখামার গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন ২৫ শতক জমিতে মুল চাষ করেছেন। গত শনিবার ৪ বস্তা মুলা নিয়ে বাজারে এসেছেন কিন্তু বাজারে মৃলা বিক্রি করতে না পারায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেছেন। বোদা বাজারের ক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, বাজারে সব সবজি পাওয়া গেলেও মুলার দাম কম। তবে আলু দাম বেড়েছে। আলু এখন ৪৫/৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন উর রশিদ বলেন, এ বছর উপজেলায় বৃষ্টি বেশি হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা রবি শস্য আবাদ করতে পারেনি। বৃষ্টি কমার পর এক সাথে কৃষকরা বেশি পরিমাণ মুলা সহ শাক সবজির চাষ করছেন। এতে বর্তমানে মুলা সহ বিভিন্ন শাক সবজির দাম কমে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য