এই লজ্জা রাখি কোথায়!

সম্পাদকীয়

এই লজ্জা রাখি কোথায়! এই দেশে গত তিন টার্ম্সে (১৫ বছর) ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ দল আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আছে। এর মধ্যে গত বছর গুলোতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা যে হারে সংখ্যায় বেড়েছে তা আগের কোন আমলে হয়নি। মুর্তি বা ভাস্কর্য্য ভাংচুর করে তারা যা প্রমান করলো তা কখনও স্বাধীনতার পক্ষে যায় না।

তবে এসবের বীজ কিন্তু অতি সুকৌশলে বেশ আগে বপন করা হয়েছিল এদেশে। আর প্রথম বীজটি ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা। এদিকে দেশে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নির্বাচনে জয়ের স্বার্থে এই দল গুলোকে ব্যবহার করছে। আর নিজেদের ব্যবহারের সুযোগ দেখিয়ে মৌলবাদিরা দলে দলে বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে। তাদের সাহস এতটা বেড়েছে যে আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হাত দিতেও দ্বিধা বোধ করে না।

অনেকের মত আমারও প্রশ্ন ছিল এরা কারা; যারা এই দেশের খেয়ে পড়ে এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করার সাহস পায়, এদের শক্তির উৎস কোথায়? আসলে এদের এই অপক্ষমতার উৎস সয়ং সরকার এবং সংসদ নেতৃবৃন্দ। তাদের এলাকায় এলাকায় ধর্মীয়দের মধ্যে দাপট ধরে রাখতে মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া, ধর্ম শিক্ষা, কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে অর্থায়ন, ওয়াজ মহফিলের আয়োজন, বক্তাদের অবান্তর দেশ সমাজ বিরোধী মন্তব্যেরর প্রশংসা এখন প্রমান দিচ্ছে যে মৌলবাদ কারো না।

সংখ্যায় এরা এখন এতবড় যে, যেকোন সময় সরকারকে এবং সরকারের যেকোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এখন আর এরা লুকিয়ে নেই। চারিদিকে যখন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মিদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে তখনই এদের উত্থান হলো ভাস্কর্য ভাংচুর কারি স্বাধীনতা বিরোধীদল হিসেবে।

সরকার যখনই একটা দলকে দমন করে আরেকটা দাঁড়ীয়ে যায় তার স্থানে, মৌলবাদ থেকে কি করে সরকার দেশকে নিরাপদে রাখবে যেখানে দেশের ৬৫% মানুষ জানেনা স্বাধীনতার অর্থ কি। যখন বুঝবে তখন হয়তো দেশের জন্য আর কিছু করার থাকবে না। আমরা গর্ব করে বলি বাংলাদেশ স্বাধীন, কিন্তু আসলে কতটুক?

-আজাদ জয়।

সম্পাদক দিনাজপুর নিউজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য