চার বছরের নাতীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছে সৎ দাদী তছলিমা বেগম। এটি ঘটে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের চকদুবুলিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। নিহত মোরছালিনের বাবা নুরুজ্জামান বাদি হয়ে ৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। একমাত্র সন্তানকে সৎ দাদী কর্তৃক হত্যার ঘটনায় শিশুর বাবা মা পাগল প্রায়। তাদের আহাজারী গ্রামবাসীকে কাঁিদয়ে তুলেছে।

জানা গেছে, শিশুর বাবা নুরুজ্জামান গ্রামের একজন কৃষি শ্রমিক। মোরছালিন তার একমাত্র সন্তান। নুরুজ্জামানের বাবা সুরত আলী একসময় কুমিল্লা ও পরে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে আয় উপার্জন করেন। সুরত আলীর প্রথম স্ত্রী জটিলরোগে মারা যাওবার পর কুমিল্লায় রিক্সা চালানোর সময় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন কুমিল্লার মেয়ে তছলিমাকে। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সেই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

করোনা কালিন সময় সুরতআলী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের চকদুবুলিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ছেলে নুরুজ্জামানের বাড়িতে রাখেন। মাঝে মধ্যে গ্রাামে এসে পুনরায় ঢাকা ফিরে যান। এলাকাবাসী জানায় নুরুজ্জামানের সৎ মা তছলিমা ছিলেন বদরাগী মহিলা। তার কোন সন্তান না থাকায় পরে তিনি নুরুজ্জামান, তার স্ত্রী ও নাতীকে সহ্য করতে পারতেন না। কোন কারণ ছাড়াই তাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে যেতেন।

শিশুর বাবা জানায় প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে তাদের চার বছরের একমাত্র সন্তান মোরছালিনকে তার সৎ দাদী তছলিমার কাছে রেখে তারা স্বামী স্ত্রী কৃষি জমিতে কামলা দিতে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসে দেখেন ঘরে তালা দেয়া। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ছেলে ও সৎ মা এর কোন হদিস না পেয়ে তারা ঘরের তালা ভেঙ্গে ফেলে। ঘরে ঢুকে দেখে তাদের একমাত্র সন্তানের মৃত দেহ বিছানার পড়ে আছে।

এলাকাবাসী জানায় এমন ঘটনায় নুরুজ্জামানের সৎ মাকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে শিশুর বাবা পুলিশে অভিযোগ করেন। পুলিশকে খবর দিয়ে গ্রামবাসীসহ তারা সৎ মা তছলিমা খুঁজতে থাকে। কিন্তু তার আর হদিস পাওয়া যায়নি। নিহত শিশুর বাবা আরো জানায় তার মা মারা যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে তছলিমাকে। তার সৎ মায়ের কোন সন্তান নেই। তিনি আমাকে ও আমার ছেলেকে সহ্য করতে পারতো না। এ আক্রোশে সে তার ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এ,এস,এম মুক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে নীলফামারী থানার ওসি(তদন্ত) মাহমুদণ্ডউন নবী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সৎ দাদী তছলিমা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা লাশ উদ্ধার করে জেলার মর্গে ময়না তদন্ত করেছি। এ ঘটনায় থানায় শিশুর বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তছলিমাকে আটকের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে পুলিশের একটি টিম ঢাকা ও কুমিল্লায় চলে গেছে। তছলিমাকে আটক করতে পারলে এ হত্যাকান্ডটির রহস্য উম্মুচিত হবে বলে মনে করেন ওসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য