সরকারি দমন ও সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কিউবার শিল্পীদের শুরু করা এক বিরল প্রতিবাদের অবসান হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হয়েছেন, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা এমনটি জানানোর পর স্থানীয় সময় শনিবার সকালে প্রতিবাদের অবসান হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

পারফর্ম্যান্স আর্টিস্ট তানিয়া ব্রুগেরা, চলচ্চিত্র পরিচালক ফের্নান্দো পেরেজসহ আন্দোলনকারীদের ৩০ জন প্রতিনিধি চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপমন্ত্রী ফের্নান্দো রোহাসের সঙ্গে বৈঠক করার পর জানান, মতপার্থক্য দূর করার জন্য একাধিক বৈঠক শুরু করতে সম্মত হয়েছেন তারা।

তারা আরও জানান, অবজ্ঞার দায়ে চলতি মাসে আট মাসের কারাদণ্ড প্রাপ্ত একজন র‌্যাপার ও বৃহস্পতিবার থেকে আটক থাকা একজন ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পীর মামলাও পর্যালোচনা করতে সম্মত হয়েছেন রোহাস।

এর আগে এই দুই জনকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়াটে শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের মামলা পর্যালোচনার প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিল কিউবার কমিউনিস্ট সরকার।

রয়টার্স জানিয়েছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রতিবাদরত সবাই সরকারি এ আশ্বাসে নিশ্চিত হয়েছেন এমন নয়, মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বাইরে এসে বৈঠকের সারসংক্ষেপ তুলে না ধরায় তাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

তবে অধিকাংশই জানিয়েছেন, চাপ প্রয়োগ করে সরকারকে ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি করানোর মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যেই একটি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কয়েকজন বলেছেন, এক দলের শাসনে থাকা দেশটিতে প্রকাশ্যে কথা বলার ভয় ভাঙ্গাও একটি বড় অর্জন।

রোহাসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী সংগীত প্রযোজক মিচেল ম্যাতোস বলেন, “আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংঘ গড়ার স্বাধীনতা, সেন্সরশিপ ও শারীরিক নিগ্রহ নিয়ে কথা বলেছি। আমার মনে হয় না, ৬০ বছরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এ ধরনের কোনো সংলাপ হয়েছে।”

এই বৈঠকের বিষয়ে কিউবা সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি এবং এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য