দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ২৬৮ বছরের পুরোনা ঐতিহ্য ও রাজ পরিবারের প্রথা অনুযায়ী শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ ফেরত গেল দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দিরে।

আজ শুক্রবার সকাল ৯ টায় দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী থেকে নগ্নপদব্রজ্রে শ্রীশ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ যাত্রা করে। যাত্রাপথে ৪টি স্থানে পূজা-অর্চনা শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে কান্তনগর মন্দিরে বিগ্রহ পৌছে। এর আগে গত ৯ আগষ্ট শ্রীশ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ জেলার কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির থেকে দিনাজপুর জেলা সদরে অবস্থিত রাজবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এবার করোনাভাইরাস সংক্রমন এড়াতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পূজা-অর্চনায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস থেকে সকলকে মুক্ত থাকা এবং দ্রুত করোনা ভাইরাস বাংলাদেশসহ পৃথিবী থেকে বিদায়ের প্রার্থনা করা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, দিনাজপুর রাজবংশের রাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে এই মন্দিরের কাজ শেষ করেন তার পোষ্যপুত্র রামনাথ। সেই সময় থেকেই কান্তজীউ বিগ্রহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং সাড়ে ৩ মাস দিনাজপুরের শহরের রাজবাড়ীতে অবস্থান করেন। জন্মাষ্ঠমীর দু’দিন আগে কান্তজীউ বিগ্রহ ধর্মীয় উৎসব-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে নিয়ে আসা হয়।

কান্তনগর ঘাট থেকে দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাট পর্যন্ত ২৬টি ঘাটে কান্তজীউ বিগ্রহ বহনকারী নৌকা ভিড়ানো হয়। পুজা-অর্চনা শেষে রাজবাড়ী কান্তজিউ মন্দিরে স্থাপন করা হয়। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ মাস অবস্থান শেষে রাসপূর্নিমার দু’দিন আগে পুনরায় শ্রীশ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী রোববার দিবাগত রাতে এখানে রাসপূর্নিমার রাতে রাস উৎসব পালিত হবে। প্রতিবছরই এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী মেলা বসে। তবে এবারে করোনা ভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে মেলার আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

মন্দিরের পূজারী পুুলিন চক্রবর্তী বলেন, প্রতি বছরই রাজ পরিবারের প্রথা অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দিরে প্রায় ৯ মাস ও রাজবাড়ী মন্দিরে প্রায় ৩ মাস বিগ্রহ রাখা হয়। সেই প্রথা অনুযায়ী আগষ্ট মাসে বিগ্রহ রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ মাস অতিবাহিত শেষে আবার শ্রীশ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে আসা হলো। আগামী রোববার এখানে রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত-পূণ্যার্থীর সমাগম হয়। তবে এবারে করোনার কারনে ভক্ত-পূণ্যার্থীর আগমন শিথিল করার জন্য বলা হয়েছে।

দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এষ্টেটের নির্বাহী সদস্য উত্তম কুমার রায় বলেন, এবারে করোনার সংক্রামন ঠেকাতে মেলার আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। যাতে করে হয়তো সরকারী রাজস্ব কম হবে তবে সাধারন মানুষ স্বাস্থ্যগতভাবে ভাল থাকবে। ঈশ্বরের কাছে এবারে আমাদের প্রার্থনা যেন দ্রুতই এই ভাইরাস পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, সকলকেই যাতে ভাল রাখে ঈশ্বর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য