সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ পর পর কয়েক বছর লোকসানের পর চলতি মৌসূমে আমন ধান আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছে পঞ্চগড়ের কৃষকরা। বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলতে পারছেন। বাজারে এখনও ধানের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বোরো ধান আবাদের দিকে ঝুঁকছেন তারা। আগের বছরের চেয়ে এবার বেশ আগে ভাগেই বীজতলায় চারা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছে কৃষকরা। আমন ধান ঘরে তোলার পর পঞ্চগড়ের সর্বত্র এখন কৃষি শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে জমি তৈরীর কাজে। গৃহস্থরা তাদের পুরনো শ্যালো মেশিন মেরামত করে নিচ্ছেন। আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যে জেলায় বোরো ধানের চারা জমিতে লাগানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে।

পঞ্চগড় জেলার মাটি বেলে-দোঁয়াশ হওয়ায় মাটিতে পানির ধারণ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত কম। আগে কেউ বোরো ধান আবাদের কথা চিন্তাই করত না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চগড়ে আমন আবাদ হয় এমন জমিতে ব্যাপক আকারে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। এই জেলায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ কম হওয়ায় কৃষকরা অধিক ফলন পাচ্ছে। পঞ্চগড়ের মাটিতে বোরো ধান চাষ করতে কিছুটা বেশি খরচ হয়। জমিতে পানির ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় বেশি পানি দিতে হয়। অপেক্ষাকৃত বেশি খরচ করে ধান উৎপাদন করে সেই ধান কম দামে বাজারে বিক্রয় হওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনতে থাকে। তবে এবার আমন ধানের দাম উর্দ্ধমূখী থাকায় তারা বোরো ধানেও লাভের মূখ দেখার আশা করছে।

পঞ্চগড় জেলা সদরসহ জগদল হাট, টুনিরহাট, চাকলা, হাড়িভাসা, বোদা, ময়দানদিঘী, তেঁতুলিয়ার শালবাহান হাটসহ বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ আমন ধান এক হাজার ৩০ টাকা থেকে এক হাজার একশ’ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এখনও হাট বাজার থেকে হাস্কিং মিল মালিকরা ধান কেনা শুরু করেনি। তারা ধান কেনা শুরু করলে ধানের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের পশ্চিম শিকারপুর গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলাম জানান, পর পর দু’বার বোরো ধান আবাদ করে খরচের টাকা তুলতে না পেরে আবাদ ছেড়েই দিয়েছিলাম। মাঝখানে কয়েক বছরের জন্য জমি বর্গা দিয়েছিলাম। এবার বাজারে চালের দাম বেশী থাকার কারণে ধানের দামও বেশি। তাই এবার বোরো ধানের জন্য ৫ বিঘা জমি তৈরী করেছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমন ধানের মত বোরো ধানের দাম পেলে বেশ লাভবান হব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, চলতি আমন মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯৯ হাজার ৬৯৫ হেক্টর। এ থেকে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে মৌসূমের শেষে এসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪০ হেক্টর বেশি হয়ে ৯৯ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছিল। ইতোমধ্যে ধান কাটা শেষের দিকে। দেশি প্রজাতির কিছু ধান কাটা বাকি রয়েছে। বাজারে এবার ধানের দাম বেশ ভাল। পোকার আক্রমনে ধান উৎপাদন সামান্য কম হলেও দাম ভাল থাকায় পঞ্চগড়ের কৃষকরা এবার বোরো ধান আবাদেও ঝুঁকছে। আগামী মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য