দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে এ বছর ভালো দামের আশায় আগাম জাতের আলু আবাদ করেছেন চাষিরা। তাদের আশা, ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে আসবে।

এদিকে নতুন জাতের আলু বাজারে উঠলে বাজারে পুরাতন আলুর দাম কমবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

দিনাজপুর সারা দেশের শস্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। এই জেলায় উৎপাদিত ধান, গম, ভুট্টা, আম ও লিচুসহ অন্যান্য ফসল জেলার চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। আমন ধান কাটা শেষ হতেই সেই জমিতে আলু আবাদ শুরু করেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলায় গত বছর ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবার করা হয়। উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন।

এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করা হবে। ইতিমধ্যে ১০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া সারা বছর খাওয়ার উপযোগী আলুর বীজ বর্তমানে কৃষকরা রোপণ করছেন। যা দুই মাস পর তোলা হবে।

সদর উপজেলার মহব্বতপুর ও উলিপুর গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছর আলুর বাম্পার ফল হয়েছিল। কিন্তু বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক লাভের মুখ দেখেননি।

এ বছর বাজারে পুরাতন আলুর দাম বেশি। তাই আশায় বুক বেঁধে আলুচাষ করেন তারা। আগাম আলুর বীজ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। আগাম আলুর দাম ভালো পেলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা কৃষকদের।

তারা আরও জানান, আগাম জাতের আলুর গাছে কোনো ধরনের রোগ দেখা যায়নি। ফলনও ভালো হয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, নতুন আলু বাজারে বিক্রি করলে কৃষকরা প্রথম দিকে একটু লাভবান হন। বাজারে নতুন আলু উঠলে পুরাতন আলুর দাম কিছুটা কমবে।

এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আলু চাষিদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য