রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ইট ভাটাগুলোতে পুরোদমে ইট তৈরীর কাহ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি ভাটায় আগুন দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ভাটাগুলোতেও আগুন দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ বছর সবগুলেি ভাটাতেই জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ খড়ি। কোন ভাটতেই কয়লার মজুদ চোখে পড়েনি। অথচ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ইট ভাটায় কাঠ খড়ি পোড়ানো বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ৫২টি ইট ভাঁটা রয়েছে। এসব ভটার অধিকাংশগুলোর কোন লাইসেন্স নেই। তার পরেও গত বছর ভাটাগুলোতে নির্বিঘ্নে ইট পোড়ানো হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারীতে রংপুরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আফরিন জাহান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেজবাবুল আলম ও ভ্রাম্যমান আদালত পীরগঞ্জের হাতে গোনা কয়েকটি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়েছিলেন। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এবারেও সরকারী বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে ভাটাগুলোতে ইট তৈরী ও পোড়ানোর কাজ চলছে। চলতি মাসে ২০ টি ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট গুলোতে আগামী সপ্তাহ নাগাদ আগুন দেয়া হবে। যে সব ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে, সে গুলোতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ খড়ি।

উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের একটি ইট ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার মন কাট খড়ির মজুদ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভাটায় আগুন দেয়ার জন্য এ মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। একটি সুত্র জানায়, দিনের বেলায় ভাঁটা গুলোতে কাঠ খড়ির মজুদ কম থাকেলেও রাতারাতি খড়ির পরিমান বেড়ে যায়। ভাটায় অন্যত্র স্তুপ করে রাখা কাঠ খড়ি সন্ধ্যার পর ভারী যানবাহন যোগে ভাটায় এনে রাতভর জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করেন। এ কৌশলে প্রতি রাতেই হাজার হাজার মন কাঠ খড়ি উজার হচ্ছে ইট ভাটায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার আশপাশের বাসীন্দাদের সাথে কথা হলে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের মতে এখনেই এ ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সকল ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহাৎসব চলবে। তাই তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপও দাবি করছেন। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রাণী রায় এর সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভাঁটা মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা যেন ভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ খড়ি ব্যবহার না করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য