জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার অনিবার্য ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়েমেন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণ হারাতে পারে লাখ লাখ মানুষ। শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এমন সতর্কতা দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদেরকে নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ত্রাণকর্মীদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ইয়েমেনে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হবে এবং সেখানকার পরিস্থিতি আরও বাজে রূপ নেবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনও সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে তখন তাদের জন্য সহায়তা পাঠানো অন্য দেশগুলোর জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে।

শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, ‘প্রভাবশালী যারা আছে তাদের সবার প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। আমি আরও অনুরোধ করব, এরইমধ্যে শোচনীয় অবস্থায় থাকা দেশটির বিরুদ্ধে কেউ যেন এমন পদক্ষেপ না নেয় যাতে পরিস্থিতি আরও বাজে রূপ ধারণ করে।’

গুতেরেস মনে করেন, জাতিসংঘ সমন্বিত ত্রাণ কর্মসূচিতে তহবিলের পরিমাণ কমে যাওয়া, ইয়েমেনি মুদ্রায় অস্থিতিশীলতা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত পক্ষগুলো আরোপিত প্রতিবন্ধকতার কারণে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বেড়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক নারী-শিশুও রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য