ঠাকুরগাঁও সংবাদাতাঃ আলোকিত শহর গড়তে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে চার কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের ছয় কিলোমিটার জুড়ে ৪ নভেম্বর সড়ক বাতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে উদ্বোধনের ১২ দিনের মধ্যে সড়ক বাতি নষ্ট এবং শহরের একাংশ আবার অন্ধকার হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আঞ্চলিক মহাসড়কের ডিভাইডারে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারে তিনশতাধিক সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়।

কিন্তু সড়কবাতি স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে গাফিলতির অভিযোগ উঠে। ঠিকাদারের কর্মীরা ছক অনুয়ায়ী ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার টেনে সড়ক বাতিতে সংযোগ দিলেও গাফিলতি করে সেই তারের কাছাকাছি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগের তার।

ঘটনাচক্রে গত রোববার ভোরে একঝাঁক উড়ন্ত কাক ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগের তারে বসলে সড়ক বাতির ২২০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। এ সময় চোখের পলকে ৩২টি সড়ক বাতি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ জানান, ঠিকাদারের কাছ থেকে এখনও সড়ক বাতিসহ কাজ বুঝে নেয়া হয়নি। এ সময় কোনো কারণে সদ্য স্থাপিত সড়ক বাতি নষ্ট হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদরকেই বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও নেসকো বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়ক বাতি স্থাপনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন টেনে নিতেন তবে হয়তো এত ক্ষতি হতো না।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদেরর সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য