মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংকাদাতাঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে প্রকাশিত একমাত্র দৈনিক পত্রিকা “মুক্তভাষা”র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বাংলাদেশ পাওয়ার লুব্রিকেন্ট লিমিটেড কোম্পানির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযোগে উল্লেখিত জমিতেই এর আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কামারপুকুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মমিনুল ইসলাম।

অভিযোগের বিষয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রইচ উদ্দীন জোতদার মতি, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজী শরিফুল ইসলাম, সার্ভেয়ার সামসুল আলম, জমি পরিমাপকারী (আমিন) মোঃ আব্দুল খালেক, সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল খালেক শুকারু প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে ফয়েজ আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে আমি আমার ক্যারিয়ার গড়তে সচেষ্ট। নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েছি। দুইবার উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেছি। যে কারনে আমার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। তারা সবসময়ই আমার ক্ষতি সাধনে লিপ্ত ছিল এবং আছে। ইতোপূর্বেও তাদের ষড়যন্ত্রের কারনে আমার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে আামার বিরুদ্ধে সরকারী খাস জমি দখল করে বাড়ি নির্মান, এলাকার অনেকের জমি বেদখল করাসহ চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের এ কে এম রেজাউল করিম পাটোয়ারি নামে একজন ভুমিদস্যু। এর প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের লোকজন তদন্ত করতে আসলে বিষয়টি অবগত হই।

তখন দেখতে পাই যে, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ধলাগাছ মৌজাধিন জেএল নং ৩৫ ভুক্ত বিএস ২৫০৯ দাগের সরকারী খাস জমি দখল করে আমার ফুফাতো ভাই মোঃ কামাল হোসেন কে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কারন, উল্লেখিত জমিটি মূলতঃ এই জমিটি যেখানে আপনারা অর্ধ শতাধিক সংবাদকর্মী যেখানে বসে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। যা এস এ ৬০১ দাগে ৯ শতক জমির উপর একটি সরকারী রাস্তা। বর্তমান বিএস দাগ ২৫০৯। আমার ফুফাতো ভাই মোঃ কামাল হোসেনের বাড়ি অবস্থিত এসএ ৬১৩ দাগে। যার বর্তমান বিএস দাগও ২৫০৯। এই জমির মালিক আমার পিতা মরহুম ময়জুল হক। তার নামেই এসএ রেকর্ড চুড়ান্ত প্রচার আছে। মূলতঃ এসএ ৬০১ দাগের ৯ শতক রাস্তা (সরকারী খাস জমি) সহ এসএ ৬১৩ দাগের ২৫ শতক জমি নিয়ে বিএস আমলে ৩৪ শতক জমির আলাদা একটা নকশা করা হয়। যার বিএস দাগ ২৫০৯।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে বদনাম করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা আমার ফুফাতো ভাই মোঃ কামালের বাড়িটিকে সরকারী খাস জমি বলে অপপ্রচার চালিয়ে এবং তা দখল করে বাড়ি নির্মানের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

এসময় তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, উপস্থিত ইউনিয়ন তহশিলদার, সার্ভেয়ার ও আমিন সাংবাদিকদের সামনেই মাপজোখ করে দেখুক সত্যই কি খাস জমিতে বাড়ি আছে। যদি থাকে তাহলে এখনই সকলের উপস্থিতিতে বাড়িটি আমি নিজে ভেঙ্গে দিবো এবং এজন্য আইনগত যে কোন ব্যবস্থা নিবেন আমার বিরুদ্ধে।

তার এ কথার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক মাপজোখ করে রাস্তা (খাস জমি) চিহ্নিত করা হয়। যা বর্তমান লোকজন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে এ ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন, সার্ভেয়ার ও আমিন। তারা ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। শেষে ফয়েজ আহমেদ বলেন, অভিযোগের আবেদনে যে ছয়জনের স্বাক্ষর রয়েছে। তার মধ্যে মনসুর আলী, জাকির হোসেন, মুক্তি বেগম জানিয়েছে তারা ওই স্বাক্ষর করেননি। রেজাউল করিম জাল স্বাক্ষরে ভুয়া আবেদন করেছেন। এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য