বিক্ষোভের মুখে থাইল্যান্ডে সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে পার্লামেন্টে ভোট দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।

বুধবার পার্লামেন্টে এ ভোট হয়। তবে বেশিরভাগ এমপি’ই বিক্ষোভকারীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রাজধানী ব্যাংকক আবার বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে এমপি’দের আলোচনা চলার মাঝেই পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সহিংস বিক্ষোভের পর এই ভোট হল।

বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী সাবেক জেনারেল প্রায়ুথ চান-ওচাকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং রাজতন্ত্রের প্রভাব কমাতে সংবিধান সংশোধন চায়।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণর ক্ষমতা হ্রাসের দাবিতে থাইল্যান্ডে গত কয়েকমাস ধরেই বিক্ষোভ চলে আসছে।

২০১৪ সালে সেনাঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ক্ষমতা দখল করেন প্রায়ুথ চান ওচা। গত বছর নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল পুনরায় ক্ষমতায় আসে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি।

ওই নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেই তার পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজপরিবারের সমর্থন থাকায় দেশটিতে যুগের পর যুগে সেনাশাসন চলছে।

বিক্ষোভের মুখে থাইল্যান্ড সরকার বলেছে, তারা সংবিধান সংশোধন নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত; কিন্তু রাজতন্ত্রের বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।

থাইল্যান্ডের বর্তমান সংবিধানে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সমালোচনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ওদিকে, পার্লামেন্টে প্রায়ুথ চান-ওচার দলই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমনকি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেটের পুরো নিয়োগ হয়েছে ২০১৪ সালে জান্তা প্রায়ুথের হাতে।

রাজার ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়ে সংবিধান সংশোধন বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া সেনেটর সুয়ানফানোন বলেন, ‘‘আমাদের রাজপরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবিধান পরিবর্তনের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়েছিল। রাজার সমর্থকরা মিছিল করে সেখানে হাজির হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। যাতে অন্তত ৪১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কেউ কেউ গুলিবিদ্ধও হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা ওইদিন কাঁটাতারের বেড়া এবং কংক্রিটের বেষ্টনী সরিয়ে পার্লামেন্ট চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং টিয়ারগ্যাস ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো কিংবা রাবার বুলেট ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে।

থাইলান্ডে গত জুলাইয়ে দেশের তরুণদের নেতৃত্বে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবারের আগে পরিস্থিতি কখনওই এতটা সহিংস হয়ে ওঠেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য