দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক বাড়ি থেকেই প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি গরু চুরি করেছে চোরেরা। আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) শেষ রাতে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার নুরজাহানপুর গ্রামের সাজু মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানাযায়, প্রতিদিনের ন্যায় যথা সময়ে গরু গোয়ালে তুলে ঘুমিয়ে পরেছিল সাজু ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। ভোরবেলা নামাজ পড়তে উঠে সাজু মিয়ার মা একটি গরুকে ঘোরাফেরা করতে দেখে ছেলেকে ডাক দেয়। সাজু মিয়া গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখে ঘরের তালা ভাঙ্গা এবং চারটি গাভীন গরু ও একটি শাহীওয়াল আড়িয়া গরু নেই। পরে ভোর বেলা অনেক খোঁজাখুজি করেও গরু পাওয়া যায়নি।

সাজু মিয়া বলেন, যখন দেখলাম গোয়াল ঘরে গরু নেই। তখন গরুর পায়ের ছাপ ধরে বাহিরে বের হয়ে অনেক খুঁজেছি। ভোর বেলায় আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকাতে সন্ধান করেছি। কিন্তু কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। চোরেরা বেছে বেছে বড় বড় গরু গুলো নিয়ে গিয়েছে। বাছুর গরু গুলো গোয়াল ঘরেই আছে। চোরেরা গরুর ঘরে একটি লুঙ্গি রেখে গেছে এবং তারা যে সিগারেট খেয়েছে তার ময়লাও পড়েছিল।

একই সময় পাশ্ববর্তী নয়াপাড়া গ্রামে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ফার্নিচারের দোকান থেকে একটি বড় মটর ও বেশ কিছু লোহার যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ দিকে স্থানীয়রা বলছে, ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে কামদিয়া রোডটি ডাকাতদের প্রধান রুট। বিগত কয়েক বছর এই রাস্তার প্রতিনিয়ত বড় বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটতো। গত মাসের শেষের দিকে একটি এবং চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেও এই রাস্তায় দুটি ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। অপর দিকে নুরজাহানপুর, কালুপুকুর, খোদাদাদপুর ও জালালপুর এলাকায় প্রতিনিয়তই গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। এত কিছুর পরেও এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিকে পুলিশের নিয়মিত কোন টহল টিম থাকে। আর টহল না থাকার কারণেই চোর এবং ডাকাতরা এই সড়ক এবং এর আশেপাশের গ্রাম গুলোকে টার্গেট করে।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ওই এলাকার আশেপাশে থাকা আমাদের রাত্রী কালীন টহল টিম সন্দেহে ভাজন একটি ট্রাককে থামার সংকেত দিলে, তারা সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আমাদের টিম ট্রাকটি ধাওয়া করতে করতে বগুড়া জেলাতে গিয়ে ট্রাকটি আটক করে। তবে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে গিয়েছে। আমাদেও ধারণা ট্রাকটি চুরির গরু পরিবহনের কাজে জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল এবং চুরি হওয়া গরু গুলো আশেপাশেই কোথাও আছে। আমরা ট্রাকের মালিক ও পলাতক ড্রাইভার-হেলপার কে শনাক্ত ও চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

রাতে টহল ডিউটি না থাকা প্রসঙ্গে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের এএসপি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিথুন সরকার জানান, বিগত দিনেও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা চোরদেরকে শনাক্ত করে চুরির মালামাল উদ্ধার এবং চোরদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছি। চুরি ও ডাকাতি রোধে সড়ক গুলোতে রাত্রীকালীন ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। কামদিয়া রোড এবং এর আশেপাশে যেহেতু মাঝে মাঝেই চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সেহেতু সড়কটিতে রাত্রী কালীন টহল ডিউটি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য