রংপুরে পুলিশের লাঠিচার্জের ছবি ধারণ করতে গিয়ে পুলিশের উপর্যপুরি পিটুনিতে গুরুতর আহত ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের রংপুর অফিসের ক্যামেরা পারসন লেমন রহমানের শরীরের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হতে পারে। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি হলেও নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এখনেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। এদিকেএ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেছেন সাংবাদিকরা।

গত কাল মঙ্গলবার সন্ধায় রাতেই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নং সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন ভিডিও সাংবাদিক লেমনকে দেখতে যান রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদ। তার তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন।লিমনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তিনি শংকা মুক্ত নন। প্রয়োজনে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

এদিকে এ ঘটনায় সিটি করপোরেশেন, জেলা প্রশাসন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবু সায়েম নামের একজন এএসআইকে এ ঘটনায় ক্লোজড করেছে আরপিএমপি। তবে ঘটনার ১২ ঘন্টা পরেও নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার না করায় ক্ষোভে ফুসছেন সাংবাদিকরা। পরবর্তী করনীয় ঠিক করতে রংপুর ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সাংবাদিক নেতাদের বৈঠক চলছে।

রংপুর ভিডিও জার্নালিস্ট এসোসিয়েশেনর সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সুমন জানান, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের এই হামলা কোনভাবেই আমরা মানবো না। কাজ করতে গিয়ে এভাবে যদি আমরা হামলার শিকার হই, তাও আবার পুলিশের দ্বারা। সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত নির্যাতনকারী পুলিশরা বহাল আছে এটা আমরা মানবো না। তাদেরকে প্রত্যাহার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিকে হবে। সেজন্য আমরা করণী ঠিক করতে রংপুরের সকল সাংবাদিক সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সাথে আলোচান সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য বৈঠকে বসেছি।

গত কাল মঙ্গলবার সন্ধায় সিটি করপোরেশনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করতে থাকলে সেই ছবি ধারণ করতে গিয়ে ১০,১২ জন পুলিশ সদস্য লাঠি ও বন্দুকরে নলের বাট দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও বুট জুতা লাথি দিয়ে গুরুতর জখম করে ভিডিও সাংবাদিক লেমনকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য