আলুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার রংপুর জেলার আট উপজেলায় বেড়েছে আলু চাষ। মূল্য বিপর্যয়ের শঙ্কায় কৃষি বিভাগ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আলু চাষে কৃষদের নিরুৎসাহিত করলেও তারা কোমর বেঁধে নেমেছেন। এবার বিঘার পর বিঘা জমিতে আলু রোপণ করছেন তারা। বিশেষ করে, রংপুর জেলার চরাঞ্চলে এবার আলুর চাষ বেশি করা হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, চরের জমিতে আলু চাষ করলে খরচ কম লাগে। এবার আলুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তাই ধার দেনা করে জমিতে আলুর চারা রোপণ করছেন। বিএডিসির বীজ আলুর দাম বেশি হওয়ায় তারা বিভিন্ন এনজিও ও বাড়িতে সংরক্ষণ করা বীজ আলু জমিতে রোপণ করছেন।

রংপুরের কাউনিয়া, গংগাচড়া, পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের বিঘার পর বিঘা জমি এখন আলুর দখলে। এসব চরে নাওয়া-খাওয়ারও সময় নেই কৃষক পরিবারের। তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আলু চাষের জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মানুষ খাওয়া চরের কৃষক নুর আলী জানান, সরকার বিএডিসির আলুর দাম কৃষক পর্যায়ে ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে করে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। বীজ কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। সেক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। এর আগে ভালো দাম পেয়ে পরের মৌসুমে আলুর বেশি চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেক চাষি। সেই বাস্তবতায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আলু চাষ করতে নিরুৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সারোয়ারুল হক বলেন, চাহিদার অতিরিক্ত আলু উৎপাদন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এ বছর আলুর দাম পেয়েছি। এটা কতদিন স্থির থাকবে সেটা কিন্তু নিশ্চিত না। গত বছর রংপুর জেলায় প্রায় ৫১ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে। এবার ৬০ হাজার হেক্টর জমি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রংপুর জেলা জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, কৃষককদের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদেরকে সরকার কর্তৃক প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি সার বীজের দাম কমানোর দরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য