দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলায় ২ নং সুন্দরপুর ইউনিয়নে গুচ্ছ ও আর্দশ গ্রামের নির্মানধীণ ব্রীজটি আজও অবহেলিত হয়ে এলাকাবাসীর চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। ব্রিজটি তৈরী হওয়ার পর উদ্বোধনের আগে বন্যার পানিতে ভেঙ্গে যায়।

জানা যায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যায় দিনাজপুর শহর রক্ষার বাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্রিজটির মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয় যা ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির উত্তর-পূর্ব দিকে হারগা গ্রাম সেখানে ৮০০০ হাজার লোকের বসবাস, দক্ষিন-পশ্চিম দিকে আর্দশ গ্রাম সেখানেও ৫০০০ হাজার লোকের বসবাস আর ব্রিজের পশ্চিম দিকে ঝাড়–য়াপাড়া ও উত্তর দিকে গুচ্ছ গ্রাম ওখানেও হাজার হাজার লোকের বসবাস।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বর্তমানে জমির আইল দিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হয়। যদিও সেটি বর্ষাকালে úানি থাকা অবস্থায় যাতাওয়াতের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। সাধারন মানুষ দুর্ভোগ সহ্য করে বিকল্পভাবে রক্ষা বাঁধের কাচাঁ রাস্তা দিয়ে অনেকদুর ঘুরে সেখানকার গ্রামবাসীদের রামবডুবির মোড়ে প্রধান সড়কে আসতে আনেক সময় লাগে।

মোঃ মোকসেদুল ইসলাম চাকার বাজার, কমলেস, শ্রী গনেশ চন্দ্র রায়, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রফুল্ল, শ্রী কালিদাস রায় সুন্দরবন ও হারগা গ্রামের বাসিন্দা, সবাই বলেন, এই ব্রিজটি দিয়ে আমরা মালামাল নিয়ে ভ্যান দিয়ে কাহারোল ইউনিয়নের ধনিয়া গ্রাম, সাইনগর, এর পর দীপনগর পার হয়ে কান্তজীর মোড়ে প্রধান সড়কে অতি দ্রুত যেতে পারতাম। ব্রিজটি চলাচলে অযোগ্য হওয়ায় মালামাল পরিবহন কেন কোন লোকজন চলাচল করতে পারে না। যেতে হলে জমি বাড়ীর আইল দিয়ে নতুবা কাচাঁ রাস্তা দিয়ে অনেকদুর ঘুরে যেতে হয়। আমরা অর্থনৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে আছি। ব্রিজটি হলে এই অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাব পড়বে, এলাকাবাসীরা বলেন।

এই বিষয়ে ২ নং সুন্দরবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অশোক কুমার রায় বলেন, অতি বন্যার কারনে শহর রক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে ব্রিজটির ক্ষতিসাধন হলে এখনও লোকজন চলাচলে ব্রিজটি অযোগ্য। প্রায় সাড়ে তিন বৎসর যাবত ব্রিজটি অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। ব্রিজটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে চাহিদা চাওয়া হয়েছিল কিন্তু আজও কোন ফলাফল পাওয়া যায় নাই।

দিনাজপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাসে অর্থবছরে উন্নয়নের বাজেট থেকে গুচ্ছ ও আর্দশ গ্রামের এবং হারগা গ্রামের সংযোগস্থলে এলাকাবাসীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্রিজটি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য দূর্যোাগ ব্যবস্থাপনার খাত থেকে ৫৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ১০৬ টাকা ব্যয়ে করা হয়েছিল। কাজ শেষ করার পর এ অঞ্চলে প্রবল বন্যার কারণে শহর রক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে ব্রিজটি বসে গেয়ে ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকে ওখানে ওভাবেই পড়ে আছে। তবে সেখানে নতুন ব্রিজের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য