টানা চার দফা বন্যার পর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে আগাম হাইব্রিড জাতের ফুলকপি ও পাতাকপির চাষ করেছেন। আগাম এ ফসলের চাষে নানা ঝুঁকি থাকলেও উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষক। কৃষকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই সবজি বাজারজাত করা যাবে। যাদের জমি নেই সেই সব কৃষক অন্যের জমি লিজ হয়ে ফুলকপি ও পাতাকপির চাষ করেছেন।

শনিবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে কোনো জমি আর পতিত নেই। বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমাহার। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের জাগিরটারী, চর-গোরকমন্ডপ, বস্তি গোরকমন্ডপ, বালাতারী, পশ্চিমফুলমতি ও কৃষ্ণনন্দ বকসী এলাকার শত শত কৃষক জমিতে ফুলকপি ও পাতাকপিসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করেছেন।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডল গ্রামের কৃষক আব্দুল সাত্তার, হাসেম আলী ও কৃষ্ণনন্দ বকসী গ্রামের আব্দুল লতিফ ও কেতারু মামুদ জানান, নানা দুর্যোগ কাটিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফুলকপি, বাঁধাকপি আগাম চাষ করেছি। প্রতি বিঘা ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ বছর ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন ও ভালো দাম থাকায় প্রতি বিঘায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বিক্রি করা যাবে। কয়েকদিন পরেই বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এ বছর কৃষকরা নানা দুর্যোগ কাটিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শে আগাম হাইব্রিড জাতের ফুলকপি চাষে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ উপজেলায় কৃষকরা আগাম ৬০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও ৬৫ হেক্টর জমিতে পাতাকপির চাষ করেছে। কিছু এলাকায় কৃষকরা বিক্রি শুরু করেছেন। কয়েকদিন পরেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি ব্যাপক হারে বিক্রি শুরু করবেন। বর্তমান ফুলকপির বাজার দর প্রতি মণ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা ও বাঁধাকপি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা বিক্রি করছেন। সুত্রঃ ইত্তেফাক

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য