এ বছর ফিলিপিন্সে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় ভামকোর আঘাতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ হয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যদিও বিবিসি মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪২ বলছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন।

ফিলিপিন্সের সবচেয়ে বড় দ্বীপ লুজন ঘূর্ণিঝড় ভামকোর আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ভূমিধসে অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেক সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে আরেক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গনি’ ফিলিপিন্সে আঘাত হেনেছিল। ‘গনি’ ছিল গত সাত বছরের মধ্যে ফিলিপিন্সে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ওই ঝড়ে ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

গত বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড় ভামকো সমুদ্র থেকে উঠে এসে ‍লুজন দ্বীপে আছড়ে পড়ে এবং বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত তাণ্ডব চালায়।

প্রশাসন এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীরা আগেই স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বললেও তারা বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি বলে জানায় বিবিসি।

ঘূর্ণিঝড় ভামকো ফিলিপিন্সে তাণ্ডব চালিয়ে এখন দক্ষিণ চীন সাগরের উপর দিয়ে ভিয়েতনামের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ‍জানায়, ভামকো স্থানীয় সময় রোববার ভোর নাগাদ সেন্ট্রাল ভিয়েতনামের হা তিং থেকে কোয়াং নাই প্রদেশ পর্যন্ত উপকূল রেখায় ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঘাত হানতে পারে।

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন সুয়ান ফুচ ঘূর্ণিঝড় ভামকোকে অত্যন্ত শক্তিশালী বর্ণনা করে ঝড়টির চলার পথে থাকা অঞ্চলের প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন।

শনিবারের মধ্যে ভিয়েতনাম প্রশাসন সেন্ট্রাল ভিয়েতনামের উপকূলীয় এলাকা থেকে চার লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য