বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মচারীদের হয়রানি ও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বরাবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের হাতে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠন কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম গ্রেড এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিভিন্নভাবে সুবিধাবঞ্চিত, নিষ্পেষিত, নিপীড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখানে কর্মচারীদের যুগোপযোগী আপগ্রেডেশন/প্রমোশন নীতিমালা না থাকায় কর্মচারীদের সময়মত আপগ্রেডেশন/প্রমোশন ও যথাযথ মর্যাদা থেকে আমরা বঞ্চিত। কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন/প্রমোশন নীতিমালা, ৫৮ জন কর্মচারীর ৪৪ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ১৭ জুন ২০১৯ ইং তারিখে আপনার (উপাচার্য) বরাবর কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন।

দাবিগুলো পূরণ না হওয়ার প্রেক্ষিতে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ গত ২৪ জুন ২০১৯ ইং তারিখে শান্তি পূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু করে। দুঃখের বিষয় আন্দোলন চলাকালীন সময় রবিউল ইসলাম রবি (প্রধান মুখপাত্র সমন্বয় পরিষদ), মাসুম খান (সাধারণ সম্পাদক ৩য় শ্রেণি কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশ), নুর আলম মিয়া (সভাপতি কর্মচারী ইউনিয়ন) এবং মালেক মিয়া (সহ-সভাপতি কর্মচারী ইউনিয়ন) এই ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

স্মারকলিপিতে তারা আরো বলেন- মাননীয় উপাচার্য আপনার সুদক্ষ প্রশাসনিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটুক এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হোক এটাই আমরা চাই। তারই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, প্রক্টর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৪ জনের সাময়িক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ সমন্বয় পরিষদের দাবিগুলো পরবর্তী ২ মাসের মধ্যে পূরণ করার শর্তে বিগত ১১/০৯/২০১৯ ইং তারিখে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রায় ১৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও সমন্বয় পরিষদের একটি দাবিও পরিপূর্ণভাবে পূরণ করেন নাই ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা সময়মত আপগ্রেডেশন/প্রমোশন না পেয়ে আর্থিক ক্ষতিসহ সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ৪ জন মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে।

উপাচার্য আমরা সাধারণ কর্মচারী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির উপর পরিবার নির্ভরশীল। তাই ৪ জনে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার, যুগোপযোগী আপগ্রেডেশন/প্রমোশন নীতিমালা প্রদানে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য