রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথম ড্রাগন চাষ হচ্ছে। ফণীমনসা (ক্যাক্টাস) প্রজাতির এক ধরনের ফল ড্রাগন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus । এ উপজেলার প্রথম ড্রাগন ফল চাষী ভগবানপুর গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়-য়া আদিবাসী যুবক সুইট মার্ডি ড্রাগন ফল চাষী।

উপজেলার যুবক চতরা ইউনিয়নের ওই গ্রামের আগাপিত মার্ডির ছেলে। রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের মাস্টার্স ফাইনালের ছাত্র সুইট মার্ডি বলেন, পড়া-লেখা শেষে চাকুরীর পিছে না ঘুরে নিজের ভাগ্য বদলের পাশা-পাশি গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একজন সফল উদ্যোক্তা হবার বাসনা থেকে ওই ড্রাগন ফলের চাষ করেন তিনি।

এ কাজে তাকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করেছেন তার ভগ্নিপতি কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার সন্তোষ সরেণ। চাকুরীর সুবাদে তিনি থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে ড্রাগনের বাগান দেখে এসে তিনি ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহিত করেন তাকে। সুইট বলেন-আমিও সিদ্ধান্ত নেই আমাদের বসত বাড়ি সংলগ্ন জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করার।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় সোয়া দু’লাখ টাকা ব্যায়ে নাটোর থেকে হলুদ,লাল ও সাদা এই ৩ জাতের ১ হাজার ২’শ ড্রাগনের চারা এনে বাগান করেন। এতে বেড়া দেয়া, সিসি খুঁটি, গেইট, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। চারা লাগানোর মাত্র এক বছর ৪ মাসের মাথায় গত ফেব্রুয়ারী থেকে তিনি ফল বিক্রি শুরু করেন।

প্রথম বছর গড়ে ৪’শ টাকা কেজি দরে ১৭ মন ফল বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বাজারজাতের অসুবিধা ছাড়াও করোনা না হলে এবারেই উৎপাদন খরচ উঠে যেত। বাগান পরিচর্যা করার পৃথক লোক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে কোথাও কোন সময় অপচয় নাকরে ড্রাগন বাগানে সময় দেন।

তাছাড়া তার মা-বাবা সব সময় বাগানটির পরিচর্যার বিষয়টি নিবীড়ভাবে দেখে থাকেন। সুইট বলেন, ড্রাগনের ফুল আসার দেড় মাসের মাথায় ফল পেকে যায়। একটি পরিপুষ্ট পাকা ফলের ওজন ৩ শ থেকে ৫ শ গ্রাম হয়ে থাকে। এ ফল খেতে সুস্বাদু ও মজাদার এবং এ ফলের বহুবিধ ঔষুধি গুনাগুন রয়েছে।

পাকা ফল ফ্রিজিং ছাড়াই ৮ থেকে ১০দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ছাত্রাবস্থায় লেখাপড়া চালিয়ে যাবার পাশা-পাশি কর্মের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলের প্রচেষ্টার সফল উদাহরণ সুইট মার্ডি। মার্ডির নতুন ফল ‘ড্রাগন’র বাগান দেখতে প্রতিদিন এলাকার বেকার যুবকসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ আসছে।

অনেকেই তার এ বাগান দেখে এবং তাঁর কথা শুনে ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু প্রথমে বাগান করতে অনেক টাকা লাগে। তিনি ওই বাগান করতে গরু ও গাছ বিক্রি করা ছাড়াও জমি বন্ধক রেখেছেন। তবে একবার বাগান করলে পরবর্তীতে তেমন কোন খরচ হয়না। পরিপুর্ন গাছ থেকে বছরে ৭ / ৮ মাস ফলন পাওয়া যায়।

একবার বাগান হয়ে উঠলে একাধারে ২৫ থেকে ৩০ বছর বাগানের ফল বিক্রি করা সম্ভব। তাঁর মতে শিক্ষিত ও কম শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে ড্রাগন চাষের প্রশিক্ষন দিয়ে সহজ শর্তে দীঘর্ মেয়াদী ঋনের ব্যবস্থ করা হলে এলাকায় ড্রাগন ফলের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এলাকার বেকার যুবকরাও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবল¤ী^ হবার ঠিকানা খুঁজে পাবে।

ড্রাগন ফল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি নিউট্রাল করে দেয় এবং এভাবে কোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ রোধ করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিত্যকার ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার থাকলে সেটা হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং বাত এর মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য