টাইফুন ভামকোর প্রভাবে ফিলিপিন্সের প্রধান দ্বীপ লুজনে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে, এতে রাজধানী ম্যানিলার বহু এলাকা তলিয়ে গেছে, মৃত্যু হয়েছে অন্তত দুই জনের ও নিখোঁজ রয়েছে আরও চার জন।

বৃহস্পতিবার শহরের নিচু এলাকাগুলোর হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, আটকা পড়া বাসিন্দারা ছাদে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কোভিড-১৯ মহামারী ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তোলার সংগ্রামরত ফিলিপিন্সে একের পর এক টাইফুন আঘাত হানছে।

চলতি বছর ফিলিপিন্সে আঘাত হানা ২১তম ঘূর্ণিঝড় ভামকো। চলতি মাসের প্রথমদিকে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন গনির আঘাতে দেশটিতে ২৫ জন নিহত ও কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। ওই আঘাত পুরোপুরি সেরে ওঠার আগেই আরেকটি টাইফুন দেশটিতে আঘাত হানল।

ভামাকোর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতার্তে।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে দুতার্তে দুর্গত লোকজনকে আশ্রয়, ত্রাণ সামগ্রী, আর্থিক সহায়তা ও দুর্যোগ পরবর্তী পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ম্যানিলার মারিকিনা সিটি এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ডুবে গেছে বলে এলাকাটির মেয়র জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে আরেকটি টাইফুনের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে ম্যানিলার বহু এলাকা তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি যান্ত্রিক নৌকা ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ম্যানিলা ও এর আশপাশের প্রায় ৩০ লাখ বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। লোকজন তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র ও পোষা প্রাণী নিয়ে পানি ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

উদ্ধার কর্মীরা রবারের ডিঙ্গি ও ভেলা ব্যাবহার করে শিশু ও বৃদ্ধদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও তাদের সহায়তা করছে।

ম্যানিলা ‍উপসাগরে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড় ও প্রবল বাতাসে নোঙর ছিড়ে একটি ট্যাঙ্কার ভেসে গিয়ে একটি সেতুতে ধাক্কা দিয়েছে, এতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ম্যানিলা থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরীর সব ধরনের গণপরিবহনও বন্ধ রয়েছে। কোস্ট গার্ড ম্যানিলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং রাজধানীর অর্থ বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে।

লুজন দ্বীপ পার হওয়ার পর ভামকো ‍কিছুটা দুর্বল হয়ে এখন ভিয়েতনামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য