কোভিড-১৯ এ ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম ইতালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বুধবার দেশটি মেক্সিকোকে টপকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে জর্জরিত বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের একটি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩২ হাজার ৯৬১ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের কথা নিশ্চিত করে। ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত দেশটিতে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৪২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস মিলল।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যত রোগী শনাক্ত হয়েছে, শীর্ষ ১০টি দেশেই তার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মিলেছে বলে রয়টার্সের এক হিসাবে দেখা গেছে।

শনাক্ত রোগীর তালিকায় সবার উপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র আর শীর্ষ দশে ইতালি ছাড়াও ইউরোপের আরও ৪টি দেশ আছে; এগুলো হল, রাশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ ৪২ হাজার ৯৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা যুক্তরাজ্যের পর ইউরোপের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

মহাদেশটির অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় ইতালিতে আক্রান্ত অনুপাতে মৃত্যুর হার বেশি। রয়টার্সের টালি অনুযায়ী, দেশটিতে এ হার ৪ দশমিক ১৮ শতাংশের বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে যা মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

মহামারীর শুরুর কয়েক মাস ইতালিতে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ট্রাক মোতায়েনের ঘটনা বিশ্বের সে সময়কার সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। দেশটিত গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

একই সময়ে কোভিড-১৯ এ গড়ে প্রতিদিন ৪৫৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯জনিত কারণে ৬২৩ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়ায় সামনের দিনগুলোতে এ গড় বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ৬ এপ্রিলের পর বুধবার ইতালি করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত ১৭০ জনের দেহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে এবং ৭ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে কোভিড-১৯ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে রয়টার্সের হিসাবে দেখা যাচ্ছে। নতুন টিকা নিয়ে কোনো আশার খবর ছাড়াই মহাদেশটি শীতকালের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় এখানে সংক্রমণ ও মৃত্যু আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য