নির্বাচন ঘিরে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রকে মহামারীসহ যেসব সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, সেসব মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা গোছাতে শুরু করেছেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার উপদেষ্টারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য বাইডেনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইলেকটরের সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পরদিন থেকেই তারা কাজে নেমে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প হলেন গত ২৮ বছরের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেন।

তবে তিনি এখনও পরাজয় স্বীকার করতে রাজি নন, বরং নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শীর্ষ রিপাবলিকারা এখনও বাইডেনের বিজয়ের স্বীকৃতি দেননি। ফলে ২০ জানুয়ারি ওভাল অফিসে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেনকে রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এরমধ্যেও ট্রাম্পের দলের কিছু সদস্য এবং দ্বিদলীয় কিছু গ্রুপ ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার নিজ রাজ্য ডেলাওয়ার থেকে দেওয়া ভাষণে বাইডেন ঐক্যের ও সমঝোতার বার্তা দিয়েছেন; বলেছেন, এখন জাতির ‘ক্ষত সারিয়ে তোলার সময়’।

রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বাইডেনের সহ-প্রচার ব্যবস্থাপক কেইট বেডিংফিল্ড বলেছেন, “কাজ এখনই শুরু হচ্ছে।”

বাইডেন সোমবার একটি করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্স চালু করার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান বেডিংফিল্ড। সাবেক সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি এবং খাদ্য ও ‍ওষুধ প্রশাসনের সাবেক কমিশনার ডেভিড ক্যাসলার এই টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি লোক মারা গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনাভাইরাস লকডাউন চলাকালে দেশটিতে প্রায় এক কোটি লোক চাকরি হারিয়েছে, তারা এখন বেকার; এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ত্রাণ কর্মসূচীর মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সামলাবেন যে কর্মকর্তারা, তাদের বাছাই করার কাজও শুরু করে দিয়েছেন বাইডেন ও তার উপদেষ্টারা।

“বাইডেন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে, পরিস্থিতি শান্ত করতে, নির্বাচনী প্রচারের কর্কশ রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর দূরে রাখতে এবং সরকার পরিচালানায় কঠোর পরিশ্রম শুরু করতে একটি নির্দেশনা জারি করতে পারেন,” বলে জানিয়েছেন বেডিংফিল্ড।

বাইডেন পরিষ্কার জয় পেয়েছেন এবং তার সঙ্গে সহযোগিতা করে কাজ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ‘দ্য বাইপার্টিজান পার্টনারশিপ ফল পাবলিক সার্ভিসেস সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন’।

বাইডেনের অধীনে জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক অথবা সিআইএ-র পরিচালক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল মোরেল ও আব্রিল হেইন্স প্রধান প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন বলে বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য