আদালতের রায়ের পরেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, উপ-রেজিস্ট্রার মোর্শেদুল আলম রনি ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলমকে স্ব-পদে যোগদানের অনুমতি প্রদানে টালবাহানা শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হয়রানি করতেই তাদের যোগদান করানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওই তিন কর্মকর্তার।

তারা অভিযোগ করে বলেন, কোন কিছু না জানিয়ে তাদের আকস্মিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে সেই বরখাস্তাদেশ হাতে পেলে জানতে পারেন, বাংলাদেশ সার্ভিস রুল পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ এর নোট ২ দ্বারা তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে উল্লিখিত বিধি তাদের ক্ষেত্রে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সরকারি কর্মচারী জেলে আটক থাকলে, গ্রেফতার হওয়ার দিন হতে সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই বিধি দেখিয়ে ওই তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাদের দাবি, তিনজনের কেউই কখনই গ্রেফতার বা জেল হাজতে থাকেননি। কিন্তু কেন তাদেরকে এমন আকস্মিক বরখাস্তাদেশ প্রদান করা হলো, সেটি পরিষ্কার হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেষ্টা করে বারবার ব্যর্থ হন।

পরবর্তীতে কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ‘এটি আইনের বিষয়। তাই আইনের মাধ্যমে সমাধান করে আসলে উপাচার্য সাথে সাথে তাদেরকে যোগদান করে নিবেন। সেই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের স্মরণাপন্ন হন তিন কর্মকর্তা।

গত ৫ অক্টোবর হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বরখাস্তাদেশ স্থগিত ঘোষণা করে এবং তাদেরকে সকল আর্থিক সুবিধাসহ যোগদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর গত ১২ অক্টোবর আদালতের ওই আদেশের কপিসহ যোগদানের জন্য তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের যোগদানের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, মূলত হয়রানি করতেই তাদের তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়। আর সেই হয়রানি দীর্ঘমেয়াদী করতেই যোগদানে টালবাহানা করছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন অফিস আদেশ প্রদান করেও মানসিক হয়রানি অব্যাহত রেখেছে।

জানা যায়, এবছরের গত ২৩ জুলাই পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, উপ-রেজিস্ট্রার মোর্শেদুল আলম রনি ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে ওই তিন কর্মকর্তা আদালতে রিট করেন। রিট করলে তখন এই সাময়িক বরখাস্তাদেশ স্থগিত করে দেয় আদালত এবং ওই তিন কর্মকর্তাকে আর্থিক সকল সুবিধাদি প্রদান করে স্ব-পদে যোগদান করাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ৫ তারিখে বিচারপতি মুজিবুর রহমান গঠিত বেঞ্চে এ রায় প্রদান করা হয়। ওই তিন কর্মকর্তার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এএম আমিন উদ্দীন।

এ ব্যাপারে জানতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র ওই তিন কর্মকর্তার যোগদানের জন্য দেয়া আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য