জম্মু-কাশ্মীরে জেলা উন্নয়ন কাউন্সিল (ডিডিসি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন’ (পিএজিডি)। গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়। পিএজিডি’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহ।

গুপকার ডিক্লারেশনের মুখপাত্র সাজ্জাদ গণি লোন বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের সিদ্ধান্ত (৩৭০ ধারা প্রত্যাহার) নিয়ে ক্ষুব্ধ। লোকেরা রেগে আছেন। ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন’গঠনের পরে আমরা সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করেছি। সুশীল সমাজের সদস্য, রাজনৈতিক দল, গুর্জর-বাকরওয়াল সম্প্রদায়, এসসি-এসটি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সকলেই আসন্ন ডিডিসি ও পঞ্চায়েত নির্বাচন একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেছেন। জম্মু- কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।’

ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি, সিপিআই (এম) এবং আওয়ামী ন্যাশনাল কনফারেন্স সমন্বিত ‘পিএজিডি’ গঠিত হয়েছে। সেজন্য এ সকল দল যৌথভাবে ডিডিসি এবং পঞ্চায়েতের নির্বাচন লড়বে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস দলও ডিডিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গুলাম আহমদ মীর বলেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে ক্ষুব্ধ করা বিজেপির ভুল ও অসাংবিধানিক নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আসন্ন ডিডিসি নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে। বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।’

জম্মু-কাশ্মীর থেকে সে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা প্রত্যাহার, পরবর্তীতে সংশোধিত ভূমি আইন কার্যকর হওয়ায় সেখানকার মানুষজন কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন। জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’বাতিলের আগে কেবল সংবিধানের ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘স্থায়ী বাসিন্দা’রাই জম্মু-কাশ্মীরে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারতেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কয়েকটি আইন পরিবর্তন করে সব ভারতীয়কেই সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি নয়া ভূমি আইনকে উপনিবেশিক ভূমি আইনের সঙ্গে তুলনা করে, জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। এসব ঘটনার মধ্যেই এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমন্বিত ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন’ (পিএজিডি)-এর পক্ষ থেকে ডিডিসি ও পঞ্চায়েতের নির্বাচন লড়ার ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য