দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আদিবাসী নেভিগেটর: আদিবাসীদের বর্তমান অবস্থা শীর্ষক দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে দিনব্যাপি এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা ও কাপেং ফাউন্ডেশনের যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার হিরণ মিত্র চাকমা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশন এর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর খোকন সুইটেন মুরমু।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক; দিনাজপুর সদর হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহাদ আলী সরকার; ব্লাস্ট দিনাজপুরের সমন্বয়ক এ্যাডভোকেট সিরাজুম মনিরা, সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, শিল্পকলা একাডেমীর জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মিন আরা পারভিন, জজ কোর্টের সহকারী কৌশলী এ্যাডভোকেট গনেশ সরেন, আমাদের থিয়েটারের পরিচালক মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান তারিক, অ্যপটাচ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুমার সরকার।

এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি শীতল মার্ডী; দিনাজপুর সদর আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি রুবেন মুরমু; নবাবগঞ্জের বাবলু টুডু, আদিবাসী নারী নেত্রী সন্ধ্যা রানী মালো, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম থেকে আগত রুমিলা কিস্কু প্রমুখ।

কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মানিক সরেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রার এক তৃতীয়াংশের (১/৩) বেশী অভীষ্টের মধ্যে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের (UNDRIP) সুনির্দিষ্ট ধারাসমূহ প্রতিফলিত হয়েছে। আদিবাসী নেভিগেটর মূলত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন সর্ম্পকিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং তার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ প্রকৃয়াজাতকরণের ফলে আদিবাসী নেভিগেটর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের সঠিক চিত্র তুলে ধরে। আদিবাসী নেভিগেটর কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক সাধারনত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কিছু সূচক ও জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক সমজাতীয় ধারার সম্মিলিনের মাধ্যমে তৈরি। সুনির্দিষ্টভাবে, আদিবাসী নেভিগেটর ফ্রেমওয়ার্কের সূচকসমূহ আদিবাসী উন্নয়ন সর্ম্পকিত।

আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী নিজ প্রচেষ্ঠায় আদিবাসী নেভিগেটরের কাঠামোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ফলে স্থানীয়ভাবে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি জানবে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে সেখানকার আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি আদিবাসী নেভিগেটরের কাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের পরিস্থিতির সাথে তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ করবে।

আদিবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক ব্যবধান কমাতে পরে আদিবাসী প্রতিনিধিগণ নিজ জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় ভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং দাতা সংস্থার সাথে এ্যাডভোকেসি করতে পারবে।

কর্মশালা থেকে আদিবাসীরা দাবি জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে, সমতলের আদিবাসীদের স্থানীয় ও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে হবে, আদিবাসীদের নিরাপত্তা প্রদান ও নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হবে; সরকারী সেবাসমূহে আদিবাসীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও সংরক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য