বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পজীবনকালীন বিনা ধান-১৭ এর চাষে আশার আলো দেখছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। প্রদর্শনী প্লট দেখেই আগামীতে এ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ২৩টি প্রদশর্নী প্লটের মাধ্যমে এ ধান চাষে কৃষকদেরকে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে।

এ জাতের ধান খড়া সহিঞ্চু এবং ১১২ থেকে ১১৮ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায়। সেই সাথে ফলনও বেশি হয়। এছাড়া আমন মৌসুমের এ ধান আগাম জাতের হওয়ায় ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে কৃষকরা রবি ফসল চাষ করার পর আবারো বোরো চাষ করতে পারবেন। এ ধান চাষ করলে কৃষকরা আগাম ধান কেটে বেশি দামে বিক্রির পাশাপাশি গরুর খাবার হিসেবে এর খড়ও বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন। এ ধান চাষে কৃষকরা হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাবেন ৬ দশমিক ৮ মেট্রিক টন। আর সর্বোচ্চ ফলন হেক্টর প্রতি ৮ মে. টন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে তিন উপজেলায় ৩০ শতক করে জমিতে ২৩টি প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে কৃষকদের উৎসাহী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএসএইড এর অর্থায়নে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের সৌহার্দ-৩ কর্মসূচীর আওতায় মহিদেব যুব কল্যাণ সমাজ কল্যাণ সমিতি বাস্তবায়ন করছে। বিনা উদ্ভাবিত এ ধান সম্প্রসারনে সার্বিক সহযোগীতা করছে বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউব রংপুর।

এ উপলক্ষে ৩নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ী গ্রামে বিনা ধান-১৭ এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: সামসুদ্দিন মিয়া। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিনা রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার, মো: জাকির হোসেন, কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হেদায়েতুল ইসলাম, প্রোগাম ম্যানেজার মো: সাবেদ আলীসহ ঐ এলাকার শতাধিক কৃষক।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ী এলাকার কৃষক তবারক আলী জানান, এবারের আমি কেয়ারের সহযোগীতায় বিনা ধান-১৭ চাষ করেছি। ধান লাগানোর ১১২ দিনের মধ্যে আজ (মঙ্গলবার) ধান কর্তন করলাম। এতো কম সময়ে ধান ঘরে তোলা যাবে এটা আশাও করিনি। এখন এই জমিতে আমি সরিষা চাষ করে পরে বোরো লাগাতে পারবো। এই জমিতে আগে বছরে ২ বার চাষ হলেও এবার ৩ বার ফসল ফলানো যাবে।

এই ধানের ফলন দেখে মাঠ দিবসে আসা কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, আগামী মৌসুমে আগাম জাতের এ ধান চাষ করবো। তবে বীজ সহজ লভ্য করার দাবী জানান তিনি।

বিনা রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, দেশের লবনাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সকল রোপ আমন অঞ্চল বিশেষ করে উত্তারাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এ জাতের ধানটির অধিক ফলন পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: সামসুদ্দিন মিয়া বলেন, স্বল্প মেয়াদী এ জাতের ধান চাষ করলে কৃষকরা একই জমিতে তিনবার ফসল ফলাতে পারবে। এতে করে কৃষকরাও লাভবান হবে। কৃষকদের মাঝে এ বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য