গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ধানের বিঘা প্রতি ফলন বেশি এবং বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষক। এই অঞ্চলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন মিলে চলতি আমন মৌসুমে ৩১ হাজার ৫শ’৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়। কিন্তু দু’দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে ১হাজার ৯’ ৩২ হেক্টর জমি।

বাকী ২৯ হাজার,৬১৮ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করছেন। চলতি মৌসুমে এসব জমিতে জিরাশাইল, বিআর-৪৯, বিনা-৭,বিআর-১১, স্বর্ণা-৫, গুটি স্বর্ণা ও সুগন্ধি জাতের ধান রোপণ করা হয়। অন্য বারের তুলনায় এবছর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নে আগাম জাতের ধান বিআর-৪৯ ও স্বর্না-৫ ইতিমধ্যই কাটা শুরু করেছে।

পাশাপাশি বাজারে নতুন ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ খুশিতে রয়েছেন। কাটাবাড়ী ইউনিয়নের ২নং গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম, মালেকাবাদ গ্রামের রমজান আলী সহ অনেকেই জানান, এবার আগাম জাতের আমন ধান বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া গো-খাদ্যের অভাব থাকায় গো-খাদ্য হিসেবে প্রতি ১হাজার আঁটি বিক্রিয় হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। আর সদ্য কাটা কাঁচা ধান বাজারে বেচাকেনা চলছে মণপ্রতি ৯শ’ থেকে ১হাজার টাকা।গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে বীজ ও ধান রোপণ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে শ্রমিকসহ ৫ হাজার টাকা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষকই সময়মতো তাদের আগাম জাতের ধান কাটতে পারছেন না। বর্তমানে এলাকায় শ্রমিক সংকট হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও ধানে পোকার আক্রমণ কম থাকলেও আমরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলছি এবং ধানের জমি পরির্দশন করছি। তিনি আরো জানিয়েছেন চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য