সংবাদ সম্মেলনঃ মুজিব বর্ষের শপথ-সড়ক হবে নিরাপদ শ্লোগান নিয়ে এবং জনগনের প্রত্যাশিত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮‘র পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবীতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন দিনাজপুর জেলা কমিটি।

১ নভেম্বর রবিবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শামীম রাজা।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন,পথ যেন হয় শান্তির,মৃত্যুর নয় শ্লোগান নিয়ে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর থেকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু করেছে নিসচা। সড়ক দূর্ঘটনার স্ত্রী নিহতের পর ২৭ বছর আগে এ আন্দোলনের শুরু করেন চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

বাংলাদেশ সরকার এদাবীকে সন্মান জানিয়ে ২০১৭ সাল তেকে দিবসটির জাতীয় স্বীকৃতি দিয়েছে এবং দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় সরকারী পালিত হচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি সময়োযোগী সড়ক আইন,সেটিও পূরণ হয়েছে এখন দরকার এ আইনের সঠিক প্রয়োগ। কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে মামননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনার পরও ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর প্রয়োগের দিন থেকেই আইনটি হোচট খায়,আইনটির যথাযথ প্রয়োগ বারবার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবহন সেক্টরের একটি অশুভ শক্তি। যদিও জনগনের প্রত্যাশিত সড়ক পরিবহন আইনের সংস্কার দাবি ছিল।

সরকারও বিভিন্ন সময় ১৯৮৩ সালে প্রণীত আইনটিকে সময়োযোগী করার উদ্যোগ নেয়। অনেকটা সময় পেরিয়ে সড়কের বিশৃংখল অবস্থার বাস্তবচিত্র এবং ২০১৮ সালের ২৯ জুলাইরাজধানীর বিমানবন্দ সড়কে বেপোরায়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট করেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ এবং দুইবাসের রেষারেষিতে হাত হারানো রাজিবের মর্মান্তিক মৃত্যুসহ বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপদ সড়কের দাবীতে গড়ে উঠা ছাত্র আন্দোলন এ আইনটি পাসের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে।

অবশেষে কোনোও চাপের মুখেনতি স্বীকার না করে সরকার এ আইনটি ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাশকরে। প্রায় ১৫ মাস পর ২০১৯ সালের ১ লা নভেম্বর আইনটি কার্য্যকর করে সরকার। প্রথম ১৪ দিন সহনীয় মাত্রায় এর প্রয়োগ থাকলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবীতে আইনের কয়েকটি বিষয় পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত কনসিডারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতির কারনে সরকার এই আইন যথাযথ প্রয়োগের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের আরো অনেক দাবীর মধ্যে পরিবহন সেক্টরের শৃংখলা জোরদার ও দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনে ১১১টি সুপারিশ করেছে ও বাস্তবায়নের পথ নির্দেশ রয়েছে। যারা অন্যায় করবে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে,পরিবহন মালিক হোক ও শ্রমিক হোক কারও চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না। আইনের বাস্তবায়ন আটকে রাখা যাবে না। মানুষকে জিম্মি করে সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ এই আইনের বাস্তবায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করেন,তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,নিরাপদ সড়ক চাই দিনাজপুর জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা: আয়শা আখতার বানু,নিসচা‘র উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তারেকুজ্জআমান তারেক,কার্য্যকরী সদস্য রহমতউল্লাহ রহমত ও এরশাদ প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য