তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ, নদী পুনঃখনন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, ভাঙন কবলিত হাজার হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তিস্তা পারের ৫জেলার মানুষ। রোববার বেলা ১১টায় রংপুর গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকার দুই ধারে ২৩০ কিলোমিটার ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এতে তিস্তা নদী ব্যবস্থপনায় মহাপরিকল্পনার সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে অভি›নদন জানান হয়।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট থেকে মানববন্ধনটি শুরু হয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিঘাট পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের উজানে ২০ কিলোমিটার ও ভাটিতে আনুমানিক ৯৫ কিলোমিটার প্রবাহিত। বাংলাদেশের ১১৫ কিলোমিটার অংশে প্রতি বছর বন্যা আর ভাঙ্গনে লাখ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বন্যা আর ভাঙ্গনের হাত থেকে মুক্তি চায় তিস্তা নদীর দুই তীরবর্তী ৭৫টি স্পটে হাজারও মানুষ।

তিস্তা নদীর সুরক্ষা, দুই তীরের বন্যা ও ভাঙ্গন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর ক্ষতিপুরনের দাবীতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা নদী নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয়।রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা কাউনিয়ায় তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন পীরগাছা উপজেলার শিবদেব পাকার মাথায়এলাকা সহ ৭৫টি স্পটে মানববন্ধনে অংশ নেন তিস্তা বাঁচাও নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে তিস্তা নদী পুনঃখননের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে বক্তব্য দেন তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ নুজরুল ইসলাম হক্কানী, সফিয়ার রহমান ,শফিকুল ইসলাম কানু, আমিন বিএসসি, মোজফফর হোসেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ আলম, মাহাবুব আলম, আমিনুর রহমান, সাদেকুল ইসলাম দুলাল, আব্দুন নুর দুলাল, বখতিয়ার হোসেন শিশির, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড, তুহিন ওয়াদুদ, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান প্রমুখ।

রংপুর বিভাগের তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও আন্দোলনের রংপুর বিভাগীয় স¤পাদক সফিয়ার রহমান বলেন, সরকারের তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষে উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলার তিস্তার পাড়ের জনগণকে একত্র করতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। তিস্তার পাড়ের জনগণ যে যেখানে আছে বাড়ীর পাশে এসে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন তিস্তা নদী রংপুর বিভাগের ৫টি জেলা উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন, উন্নয়ন কর্মী ও সুধিজন ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন,তিস্তা রক্ষায় যে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন চান করতে হবে। এদিকে নদী বিশেষঞ্জ ড.তুহিন ওয়াদুদ মনে করেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিন্ন পানি চুক্তি, নদী খনন অবিলম্বে করতে হবে। অন্যথানায় তিস্তাকে রক্ষা করা যাবে না।তিস্তা নদী ব্যবস্থপনায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে অভি›নদন জানান হয়।

মানবন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুভিটা ও জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি একেবারে কমে যায়, ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য ভারতের উজানে বাঁধ দিয়ে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নদী পুনঃখনন না হওয়ায় মরা খালে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তিস্তা খনন করে পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের কবলে পড়তে হবে না।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশে ১১৫ কিলোমিটার প্রবাহিত।

এ অংশে প্রতিবছর বন্যা আর ভাঙনে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে মুক্তি চান নদী তীরবর্তী মানুষ তিস্তা নদীর সুরক্ষা, দুই তীরের বন্যা-ভাঙন রোধ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তারা।তিস্তা নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিস্তাতীরবর্তী ৫টি জেলার আর্থিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু একটি চক্র এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা নদী তীরের ৭৫টি স্পটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড হাতে তিস্তার ২ তীরে হাজার হাজার মানুষকে উপস্থিত হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য