রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার একটানা বাতাসের গতি নিয়ে ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হেনেছিল টাইফুন গনি।

এর তাণ্ডবে ওই অঞ্চলে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঝড়ের সঙ্গে আসা তীব্র বৃষ্টিপাতে কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিপিন্সের বিকোল অঞ্চল দিয়ে স্থলে উঠে আসার পর বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী এই টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর টাইফুন ক্যাটাগরি অনুযায়ী এর মাত্রা হ্রাস করে ফিলিপিন্সের আবহাওয়া ব্যুরো।

টাইফুন গনি একটানা বাতাসের গতি ও ঝড়ো হাওয়াসহ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার (ঘণ্টায় ১৪০ মাইল) থেকে ঘণ্টায় ৩১০ কিলোমিটার (১৮০ মাইল) বেগ নিয়ে স্থলে উঠে এসেছিল। পরে কিছুটা দুর্বল হয়ে ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার গতিতে বইতে থাকে।

গনি এখন রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে্ এবং এটি এখনও ক্ষয়ক্ষতি করার মতো শক্তিশালী অবস্থায় আছে বলে আবহাওয়া সংস্থাটি জানিয়েছে।

গনি বিকোল অঞ্চলের দুইটি স্থান দিয়ে দুইবার সাগর থেকে স্থলে উঠে আসে। এখান থেকে চার জনের মৃত্যুর খবর এসেছে বলে প্রাদেশিক গভর্নর আল ফ্রান্সিস বিচারা। মৃতদের মধ্যে একজন উপড়ে পড়া গাছের আঘাতে ও পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু নদীর উপচে পড়া পানির স্রোতে ভেসে যায়।

তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ওই খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।

সংবাদ চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা ভিডিও ফুটেজে বিকোলে নদীর পানি উপচে বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম ডুবে গেছে, এমনটি দেখা গেছে।

রযটার্স জানিয়েছে, বিচারা আগ্নেয় কাদা প্রবাহের খবরও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও খবর পেয়েছেন।

কেজন প্রদেশের গভর্নর দানিলো সুয়ারেজ জানিয়েছেন, গনি তাণ্ডবে গাছাপাল উপড়ে পড়ে ১০টি শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টাইফুনটির প্রভাবে বিপজ্জনক জোনের মধ্যে পড়া এলাকাগুলোর এবং মেট্রোপলিটান ম্যানিলার বাসিন্দারাসহ এক কোটি ৯০ লাখ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান রিকার্ডো জালাড জানিয়েছেন, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রায় তিন লাখ ৪৭ হাজার লোক অবস্থান নিয়েছে। এদিন সকালে সংস্থাটি আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ লাখ লোক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছিল।

নিজের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবাসস্থল দাভাও শহর থেকে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকি করছেন প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতার্তে, জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া লোকজনকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

গনির কারণে বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ম্যানিলার নিনয় অ্যাকিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

গনি, হাইয়ানের পর ফিলিপিন্সে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন। ২০১৩ সালে হাইয়ানের তাণ্ডবে দেশটিতে ছয় হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

গত মাসে ফিলিপিন্সে আঘাত হানা টাইফুন মোলাভের কারণে ম্যানিলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ২২ জন নিহত হয়।

দেশটির আবহওয়ার ব্যুরো জানিয়েছে, আটসানি নামের আরেকটি ক্রান্তীয় ঝড় তাদের পর্যবেক্ষণে আছে, এটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে লুজনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য