১৪০০ শতাব্দির মাঝামাঝি থেকে ১৭০০ শতাব্দির মাঝ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছর ধরে ইউরোপ ডাইনি শিকার এবং ডাইনি হত্যা চলিয়েছে। সেসময় ইউরোপে খ্রীষ্ট ধর্মের বাহিরে যারা অন্য ধর্মের চর্চা করতো তাদের জাদুবিদ্যা চর্চার জাদুকর এবং ডাইনি আখ্যা দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হতো।

সেসময় অসংখ্য নারী পুরুষ হত্যা করা হয়েছিল। তবে প্রাচিন কাল থেকে যেহেতু নারীরা ধর্মে কর্মে বেশি নিয়জিত থাকতো, তাই ডাইনি হিসেবে নারীদের বেশি পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন মত প্রকাশ অথবা রাজা সমাজপতিদের ইচ্ছার বাহিরে কথা বললে ডাইনি অপবাদে শাস্তি দেওয়া হতো। অধিকাংশ ইউরোপিয় মনে করে সেসময় সঠিক কাজ করা হয়েছিল।

বর্তমান যুগে সেই সব আধ্যাত্মীক বিদ্যার চর্চা না থাকায় আমরা বলতে পারবো না সেসময় আসলে কি ঘটতো। সেই নারী পুরুষদের সমাজ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর জাদুকর আখ্যা দিয়ে কি কারনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। ইতিহাসে অনেক কিছু লেখক বা সেসময়ের রাজা সমাজপতিদের মন মত সাজানো, তাই প্রকৃত ঘটনা আমাদের পক্ষে জানা উপায় নেই।

এখন কি সেই জাদুবিদ্যা চর্চা আছে? তাহলে কেন একটা মানুষকে শত শত লোক মিলে মারপিট করে হত্যা করার পর, তার লাশে আগুন দেওয়া হলো? যাকে হত্যা করা হয়েছে সেও তো একজন ধার্মীক ব্যাক্তি। লোকটা ধর্মের এমন কি অবমাননা করেছিল যে তাকে তার জীবন দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। ধর্ম কি এত ছোট, এত তুচ্ছ যে তার অপমান বা অবমাননা সম্ভব।

আজকের এই উন্নত যুগে এধরনের ঘটনা বড় ভয়ংকর। সুস্থমস্তিস্কের যেকোন মানুষের অস্তিত্ব কাঁপিয়ে দিতে পারে এ ঘটনা। তখন জাদুবিদ্যার নামে মানুষ হত্যা করা হয়েছে আর এখন ধর্ম অবমাননার নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। অথচ মানুষ হত্যা কোন ধর্মের আদেশ কখনই হতে পারে না। তাহলে যারা এধরনের কাজ করছে তাদের আমরা কি নাম দিবো, তাদের জাদুকর তো অবশ্যই বলা যায় না।

ধর্ম চর্চার এই নির্মম ভয়ংকর রুপ নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বহু দেশে এখনও পাথর নিক্ষেপ, বাহুকর্তন, শিরচ্ছেদ জাতিয় শাস্তির প্রচলন আছে। ভক্তি এক জিনিষ আর অন্ধভক্তি অন্য। না জেনে না বুঝে শুধু ধর্ম অবমাননার নামে লামনিরহাটে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার প্রচলন দেশব্যপি শুরু হয়ে গেলে কি পরিনতি হবে দেশটার। এটা কি সরকার নিয়ত্রন করতে পরে না। বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে যেভাবে সরকার, সমাজ এবং সমাজ ব্যবস্থার অবমাননা করা হয়, এই প্রবনতা যদি এখনই নিয়ত্রন না করা হয় তাহলর পরিনতি ভয়াবহ রুপ ধারন করবে।

ধর্ম ব্যবস্থা মানুষকে সভ্য করার জন্য তৈরি হয়েছে। অথচ এই ধর্মকে ব্যবহার করে এক শ্রেনির মানুষ বারবার অসভ্যতা বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ভয় হোক ভক্তি হোক কিংবা অন্ধবিশ্বাস, যে কারনে হোক সরকারের নিরবতায় এধরনের মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং দেশ বা বিশ্বব্যপি ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এসব কারনে হয়তো এক সময় ধর্মচর্চাকে জঘণ্যতম অপরাধ মনে করা হবে। এবং এধরনের মূর্খ উন্মাদনার কারনে সেসময় ধার্মীকদের নির্বিচারে কঠোর শাস্তির আয়তায় আনা হবে। আল্লাহ্ যেন সবাইকে হেদায়েত দান করেন।

– আজাদ জয়
সম্পাদক দিনাজপুরনিউজ

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য