সৌদি আরবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে এতদিন যে কফিল পদ্ধতি ছিল তার বদলে নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে নতুন এক ধরনের চুক্তির কথা ভাবছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিক নিয়োগে আগামী বছরের প্রথম ভাগ থেকেই নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর করারও পরিকল্পনা আছে তাদের, অর্থনীতি বিষয়ক পত্রিকা মাল গত সপ্তাহে এ কথা জানিয়েছে।

সৌদি আরবে সাত দশক ধরে কার্যকর কফিল পদ্ধতিতে অভিবাসী শ্রমিককে একজন নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছেই বাধা থাকতে হতো। নিয়োগকর্তা না চাইলে সৌদি আরবের অন্য কোথাও কাজ করারও বৈধতা থাকতো না তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটিতে এখনও কফিল পদ্ধতির আওতায় ১০ কোটিরও বেশি শ্রমিক কাজ করছে।

নিয়োগকর্তার ইচ্ছাধীন হওয়ায় অনেকেই এ পদ্ধতিকে অঘোষিত ‘দাস প্রথা’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে আসছিলেন।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত এ পদ্ধতি বদলাতে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

রিয়াদ এখন আগামী বছরের জুনের মধ্যেই কফিল পদ্ধতিটি তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে বলে গত সপ্তাহে অজ্ঞাত বেশ কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে মাল জানিয়েছে।

চলতি বছর সৌদি আরব শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-২০র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। কট্টর রক্ষণশীল এ দেশটি গত কয়েক বছর ধরেই তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পর্যটন, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বিদেশি শ্রমিকদের আকৃষ্ট করাসহ নতুন অনেক কিছুর দিকেই ঝুঁকেছে।

তারই ধারাবাহিকতায় এখন কফিল পদ্ধতির বদলে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা সম্ভব এমন নতুন ধরনের চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাল।

সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় কয়েকদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বলেও তাদের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য