দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী নিবাসী সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পুলিন বিহারী চক্রবর্তী পরলোকগমন করেছেন (দিব্যান লোকান স গচ্ছতু)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিলেন। ১৯ অক্টোবর ২০২০ সোমবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ২ ছেলে, ৩ ভাই, ৪ বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং অগনিত ছাত্র-ছাত্রী রেখে গেছেন।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে দিনাজপুর শহরের শোকের ছায়া নেমে আসে।

শুভাকাঙ্খী-পরিচিত জন তাঁর উত্তর বালুবাড়ীস্থ বাসভবনে ভীড় করেন তাঁকে শেষ বারের মত একনজর দেখার জন্য। অগনিত প্রাক্তন-বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে দেখতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

প্রিয় শিক্ষার্থীদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পিতৃতুল্য প্রিয় শিক্ষাগুরু না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না।

পরিবার জানায়, পুলিন বিহারী চক্রবর্তীর অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের জন্য উত্তর বালুবাড়ীস্থ বাসভবন হতে ১৯ অক্টোবর ২০২০ সোমবার বিকেল ৩ টায় দিনাজপুর কেন্দ্রীয় ফুলতলা শশ্মান ঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তার মুখাগ্নী করবেন জ্যেষ্ঠ পুত্র পার্থ সারথী চক্রবর্তী নয়ন।

পুলিন বিহারী চক্রবর্তীর মৃত্যুতে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বি কে বোস, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনাজপুর জেলা সংসদের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক সত্য ঘোষ, দক্ষিণ বালুবাড়ী পুজা কমিটি, স্বর্গীয় অমলেন্দু ভৌমিক এর পরিবার, সানন্দা পরিবার, দৈনিক আজকের দেশবার্তা পরিবার এবং দিনাজপুর নিউজ পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ ১৯৫৬ সালে দিনাজপুর মহারাজা গিরিজানাথ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর দিনাজপুর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও জিলা স্কুলে শিক্ষকতা করেন। সেখান হতেই তিনি অবসর গ্রহন করেন।

তিনি বাংলা ব্যাকরন পান্ডিত্যের সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে গেছেন নিরলসভাবে। শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ শিখনে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তিনি।

শিক্ষা ক্ষেত্রে পন্ডিত হিসেবে সমাজের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ছিলেন পুজনীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানুষ। তিনি সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

তিনি ছিলেন শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এবং বিনয়ী-আপাদমস্তক আদর্শবান শিক্ষক। তিনি বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে টেনে নিয়ে বিনা পয়সায় নিজস্ব টোলে পড়াতেন। খাতা-বই-কলম নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিনে দিতেন। সর্বপরি তিনি ছিলেন সাদা মনের মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য