দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর শহরের ৫ নং উপশহর খেরপট্টি এলাকা থেকে নারী ও শিশু পাচারকারী সন্দেহে ১ জন নারী ও ২ জন পুরুষ কে আটক করেছে জনতা।

১৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ৯ টায় ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মেঘলা আক্তার মালা (১২) পরিক্ষার খাতা জমা দিতে স্কুলে যাওয়ার পথে জোর পূর্বক মোটরসাইকেলে তুলতে নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তা সন্দেহ কলে উক্ত ১ জন নারী ও ২ জন পুরুষ কে আটক করে স্থানীয় জনগণ।

আটককৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জের গ্রামের পাষান বেপারীর মেয়ে বিউটি খাতুন (১৯), নীলফামারী জেলার উত্তর চাওড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের পুত্র জাকির হোসেন (২০) এবং একই এলাকার ভুপেন রাযের পুত্র বিপুল রায় (১৯)।

স্থানীয় লোকজন জানান, উপশহরের খোদমাধবপুর বানিয়া পাড়ার মোস্তফা কামালের মেয়ে ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মেঘলা আক্তার মালা পরীক্ষার খাতা জমা দিতে স্কুলে যাচ্ছিল। স্কুল যাওয়ার পথে মালাকে জোর পূর্বক মোটরসাইকেলে চড়তে বলে বিউটি ও তার সহযোগীরা।

মোটর সাইকেলে চড়তে আপত্তি করে মালা, একপর্যায়ে মালার চিৎকার করলে এলাকার লোকজন শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসলে বাজাজ সিটি-১০০ লীলফামারী-হ ১৩-০৭৯০ মোটর সাইকেলে বসে থাকা জাকির ও বিপুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীরা আটক করে পুলিশকে খবর দেয় এবং দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পুলিশ ৩ জনকে থানায় নিযে যায়। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলার পস্তুতি চলছিল।

উপশহরের খোদমাধবপুর বানিয়া পাড়ায় দিনাজপুর জেলা দলের খেলোয়ার পিকের বাসায় গত ২ মাস ধরে বসবাস করছিল আটকৃত বিউটি। একসময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে পিকের বাবা মকছেদ আলী, মাতা খালেদা বেগম কে জিজ্ঞাসা করলে বড় ছেলে পটল এর বউয়ের আত্মিয় বেড়াতে এসেছে বলে জানান। অল্প কিছুদিনের মধ্যে স্থানীরা জানতে পারে বিউটি একজন কবিরাজ ঝাড়-ফুক,সন্তান না হওয়া,বাদব্যাথার সমাধান দেন। সন্তান হওয়ার জন্য বিউটি কবিরাজি ফি বাবদ সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা করে নিতেন এবং ৩ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান গর্ভধারণ নিশ্চিত হবে সকলের দাবী করতেন বলে বানিয়া পাড়া এলাকার মহিলারা জানান।

আশ্রয়দাতা খালেদা বেগম জানান, আমারা বিউটিকে ২ -৩ বার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি তাও সে সড়ক দূর্ঘটনার কথা বলে আবার ফিরে আসে। আমার ছোট মেয়ে সূবর্ণার জন্য খাবার কিনে নিয়ে আসে, এখানে সেখানে ডেকে নিয়ে যায়। আমরা জানতে পেড়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। এবং আমার মেয়েকে সাবধান করে দিয়েছি এবং বলেছি বিউটি কোথাও ডাকলে বা যেতে বল্লে তা যেন না শোনে।

উক্ত ৩ জনকে আটকের সময় বিউটি-এর কাছে থাকা ব্যাগের মধ্যে মৃত মানুষের বিভিন্ন হাঁড়, মাছ ধরার বর্ষি, সুই, সিদুর, ক্যামিকেল জাতিও দ্রব্য, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাদি পাওয়া গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য