নীলফামারী সংবাদাতাঃ নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ৮৪৭ টি মন্ডবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজাকে সামনে রেখে চলছে নানা প্রস্তুতি।

এর মধ্যে সদরে ২৭৭, জলঢাকায় ১৭৮, ডোমারে ৯৭, সৈয়দপুরে ৭৯, কিশোরগঞ্জে ১৪১, ডিমলায় ৭৫ টি পূজা মন্ডবের কাজ চলছে। জেলা ত্রাণ, দূর্যোগ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ৮৪৭ পূজা মন্ডবের বিপরীতে জেলায় ৪২২ দশমিক ৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রনালায়। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডবে ৫০০ কেজি করে চাল বিতরন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ওই বরাদ্দ পৌঁছে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারনে এবার দুর্গোৎসবে আমেজ না থাকলেও মন্ডবে মন্ডবে চলবে ধর্মীয়ভাবে পূজা অর্চনার কাজ, বাজবে ঢাক ও কাসড় ঘন্টা।

অপরদিকে, সরগম হচ্ছে স্থানীয় মার্কেট ও শপিং মল। সনাতন ধর্মাম্বলীদের মাঝে পুজাকে ঘিরে শহরের মার্কেট গুলোয় কেনাকাটার ওপর বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারাও পুজার কেনাকাটা করতে ভিড় করছে বিভিন্ন গার্মেন্টস, কসমেটিকস ও জুতার দোকানে। তবে এবছর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দুর্গাপুজা পালনে কড়া নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রিয়ভাবে।

জেলা শহরের মিলনপল্লী এলাকার সার্বজনিন দুর্গা মন্ডবের পুরোহিত মিন্টু কুমার ভট্টাচার্য জানান, সনাতন ধর্মাম্বলীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর কয়েক দিন বাকী। প্রতি বছর অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের ধর্মানুশারে সত্য, ত্রেতা, দাপর ও কলি যুগের মধ্যে ত্রেতা যুগের অবতার রাজা রামচন্দ্রের আমল থেকে এই দুর্গাপূজা পালিত হয়ে আসছে।

অশুভ শক্তি অসুরের অত্যাচারে মানবকুল এমনকি দেবতাকুলও অতিস্ট হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলে ঈশ্বর তার সব শক্তি একীভূত করে নারী মূর্তি ধারন করে দেবী দূর্গাকে ধরণীতে পাঠায়। দেবী দূর্গা অশুভ শক্তি অশুরকে পরাজিত করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার মন্ডবে মন্ডবে চলছে দুর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি।

পূজা মন্ডব গুলোয় চলছে সৌন্দর্যমন্ডিত প্রতিমা তৈরীর প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে কিছু পূজা মন্ডবে প্রতিমার অবকাঠামোগত মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে এ প্রতিমা গুলোয় রঙের কাজ করা হবে পূজার দুই একদিন আগে। আবার কোথাও কোথাও চলছে প্যান্ডেল তৈরী আর সাজসজ্জার কাজ। জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রমেন্দ্র নাথ বর্ধন বাপী জানান, এবারে পূজায় স্বাস্থ্যবিধির ওপরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পূজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এবার জেলায় প্রায় ৮৪৭ টি মন্ডবে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।

তিনি জানান, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারনে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টার মধ্যে সকল কর্মকান্ড শেষ করতে হবে। এরপর সেখানে পাহাড়াদার ও পূজারী ছাড়া কেউ অবস্থান করতে পারবে না। ওই কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায় জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে জেলা প্রশাসন ও পূজা উৎযাপন কমিটির সিন্ধান্ত মোতাবেক পুজা মন্ডবে ভক্তদের প্রবেশে ২৬ টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার ও গ্রাম পুলিশ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, হিন্দু, বৌদ্দ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিসদের কেন্দ্রিয় কমিটি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সনাতন ধর্মাম্বলীদের শারদীয় দুর্গাৎসব পালিত হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার ও গ্রাম পুলিশ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য