দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)র স্বপদে বহাল হয়েছেন সদ্য বিদায়ী রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা ফজলুল হক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন সার্জারী এন্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগের শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে একথা জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে নিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ রাজিব হাসান স্বীয় বিভাগের মুল দায়িত্ব শিক্ষকতা ও গবেষনায় মনোনিবেশের জন্য তাঁর উপর অর্পিত রেজিস্ট্রারের পদ থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছেন। তাঁর স্থলে প্রফেসর ফজলুল হককে তাঁর নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পযন্ত রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত করা হলো।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড মু. আবুল কাসেমের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী ১৭জন শিক্ষক লিখিতভাবে কর্মবিরতী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতী ঘোষনার পরেই ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে নিযুক্ত প্রফেসর বা ফজলুল হক, মেডিসিন সার্জারী এন্ড অবস্ট্রেটিক্স বিভাগকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করে অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ রাজিব হাসানকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পযন্ত রেজিস্ট্রাররের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হলো।

এ ঘটনায় রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রফেসর রাজিব হাসানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পরিবারের সন্তান অভিযোগ আনে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে প্রফেসর রাজিব হাসানের পদত্যাগ ও সেই সাথে সাবেক রেজিস্ট্রার ফজলুল হককে স্বপদে বহালের দাবি জানান।

অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে প্রফেসর রাজিব হাসান বলেন, উপাচার্যের অনুরোধে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। যেহেতু প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কর্মবিরতীতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উপাচার্যের সাথে ওই শিক্ষকদের ফলপ্রসু আলোচনা হওয়ায় তাদের সম্মানার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার বাবা রাজাকার ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রফেসর ফজলুল হক বলেন নতুনভাবে রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব গ্রহনের চিঠি হাতে পেয়েছি। আগামী রোববারে যোগদান করবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ‍ উপাচার্য প্রফেসর ড মু. আবুল কাসেম বলেন, যে ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকরা কর্মবিরতী পালনের ঘোষনা দিয়েছিলেন তা ভিত্তিহীন। এটা এক ধরণের ভুল বুঝাবুঝি থেকে তারা করেছিলো। গত রোববার তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা কর্মবিরতী প্রত্যাহার করেছেন। পুনরায় রেজিস্ট্রার প্রফেসর ফজলুল হককে বৃহস্পতিবার থেকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রফেসর রাজিব হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য