রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তদারকি ও নিয়মিতবাজার মনিটরিং না হওয়াতে কয়েক দফায় বেড়েছে কাঁচা শাক-সবজির দাম। এক মাসের ব্যবধানে আলু, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। একমাস আগেও যে আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ২৮ টাকা কেজি, এখন তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫-৫৫ টাকায়। আলুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেগুনের দামও। একমাসের ব্যবধানে বেগুণের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। এখন প্রতিকেজি বেগুনের দাম ঠেকেছে ৮০ টাকায়। এছাড়াও বাড়ছে সব ধরনের সবজির দামও।

বুধবার(১৪ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর সিটি বাজার, শাপলা চত্বর খান বহুমুখী কাঁচা বাজার,কামাল কাছনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমনটা জানা গেছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দফা বন্যা আর অতি বৃষ্টিও প্রভাব ফেলেছে সবজির দামে। পাশাপাশি কাঁচা শাক-সবিজর সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া মনে হচ্ছে । রংপুর নগরীর সিটি বাজার। জেলার সবচে বড় এই পাইকারি ও খুচরা বাজারে শাক-সবজি সরবরাহ কমেছে। যেকোনো সময়ের তুলনায় এখানে সবজির সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে

১০ দিন আগেও রংপুরের সবজি বাজারে বেগুন ছিল ৪০-৫০ টাকা। এখন যা ৬৫-৮০ টাকা। যে আলু ছিল ২০-৩০ টাকা, এখন দাম বেড়ে তাঠেকেছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়। আলু বেগুণের সাথে দাম বেড়েছে তরিতরকারির অন্যতম উপাদেয় কাঁচামরিচেরও। আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু এখন সব সবজিরই চড়া দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজির বাজারের পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে।

এনিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। নিত্য খাদ্যপণ্যের এমন দাম বাড়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কোনো মনিটরিং না থাকায় এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে দাম বেড়েছে ১০-২৫ টাকা। আবার কোথাও কোথাও দিনের বেলা একরকম দামে বিক্রি হলেও রাতে তা আরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম ব্যাপার কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকটকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, আগের চেয়ে বাজারে কাঁচাশাক-সবজির সরবরাহ কিছুটা কম হচ্ছে। যার প্রভাবে ব্যবসায়ীদেরও বেশি দামে কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সঙ্গে কয়েক দফার অতি বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতেও দুষছেন ব্যবসায়ী মহল। প্রতি বছর আগাম শীতকালীন শাক-সবজিতে মাঠ ভরা থাকলেও এবার দ্রুত পচনশীল-সবজিসহ বেশিরভাগ ফসল বন্যায় নষ্ট হওয়ার কারণে আলুর ওপর চাপ পড়েছে এজন্য দামটা একটু বেশি বলছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নগরীর শাপলা চত্বর খাঁন বহুমুখী কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনাম মিয়া ও সাকের হোসেন বলেন, সব সবজিরই দাম বেড়েছে। গ্রাম থেকে এখন কাঁচা বাজারে সবজি সরবরাহ কমেছে। যার কারণে দুই-তিনসপ্তাহের ব্যবধানে সব সবজিতেই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজারে কাঁচাশাক-সবজির সরবরাহ কম

এই বাজারে একমাস আগে আলু ছিল ৪০ টাকা আর বেগুন কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে আলু ৫০ থেকে ৫২ এবং বেগুন ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়।

এছাড়াও কাকরোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, লালশাক, শসা, ধনেপাতা, করলা ও লাউয়ের দামও বাড়তি। শাক-সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতারা।

তারা জানান, মাছ, মাংসের যেমন দাম সবজির দামও একই। আমাদের নাগালের বাইরে সব ধরণের সবজির দাম। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়লেও প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ নিরব। কোথাও কোথাও কাঁচা সাব-সবজিও এখন একদরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিলেও রংপুরে বুধবার দুপুরে বেশির ভাগ বাজারে ৪০ টাকার ঊর্ধ্বে আলু বিক্রি করতে দেখা গেছে। নগরীর কামাল কাছনা বাজারে কথা হয় সাজ্জাদ হোসেনের সাথে।

তিনি বলেন, ভাতের পর আলুর উপর নির্ভর করে নিম্ন আয়ের মানুষ। সেই আলুর দাম এখন ৫০ টাকার ওপরে। প্রতিপদের আলুতে বেড়েছে কমপক্ষে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। অথচ গ্রামেগঞ্জে কৃষকের কাছে আলুনেই। আলু এখন মজুতদার এবং কোল্ডস্টোরের মালিকদের হাতে। তারাই কারসাজি করে আলুর বাজারগরম করে দিয়েছি।

তবে কৃষিবিপণন অধিদপ্তর বলছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসবে। রংপুর কৃষিবিপণন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, যদি যোগানের সমন্বয় না থাকেতাহলেই কিন্তু আমাদের ব্যত্যয় ঘটে। এই অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। শীতের সবজি বাজারেআসা শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই এ অবস্থার উন্নতি হবে।

তিনি আরও জানান, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিকেজি আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য