বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহকে তার নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরিস ডেভন হসপিল আদালতে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারে থাকা হসপিলকে গত মঙ্গলবার স্কাইপের মাধ্যমে ম্যানহাটন স্টেট কোর্টের বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

হত্যা, চুরি, লাশ গুম, আলামত নষ্ট করাসহ কয়েকটি অভিযোগে ২১ বছর বয়সী হসপিলকে অভিযুক্ত করে এ মামলার বিচার চলছে।

গত ১৩ জুলাই ম্যানহাটানের লোয়্যার ইস্ট সাইডে ৩৩ বছর বয়সী ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাংলাদেশের পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় লাগোসে যৌথ উদ্যোগে অ্যাপভিত্তিক মোটরবাইক রাইড সার্ভিস ‘গোকাডা’ চালু করেন। গতবছর সাড়ে ২২ লাখ ডলারে ইস্ট হিউস্টন স্ট্রিটের ওই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন তরুণ এই মিলিয়নেয়ার।

পুরো একদিন ফাহিমের কোনো সাড়া না পেয়ে সেদিন ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন তার বোন। ভেতরে ঢুকে তিনি ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য দেখতে পান।

ফাহিমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল কেটে টুকরো করা। কিছু টুকরো বড় আকারের গার্বেজ ব্যাগেও ভরে রাখা হয়েছিল। পাশেই ছিল একটি বৈদ্যুতিক করাত, তখনও সেটির তার ছিল সকেটের সঙ্গে যুক্ত।

এর তিন দিন পর ফাহিমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সে সময় বলা হয়, হসপিল মোটা অংকের ডলার চুরি করেছিলেন ফাহিমের কাছ থেকে। বিষয়টি ফাহিম জেনে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।

যেদিন ফাহিমের লাশ পাওয়া গেল, তার আগের দিন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরদিন খুনি ওই অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যায় লাশ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাহিমের বোন ওই ভবনে উপস্থিত হন এবং লবি থেকে কলিং বেল চাপেন। সে শব্দেই ঘাতক সবকিছু ফেলে ভবনের পেছনের দরজা ও সিঁড়ি ব্যবহার করে পালিয়ে যায় বলে সে সময় ধারণা দিয়েছিল পুলিশ।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি ইলেকট্রিক করাত, কাঁচি, ছুরি, গ্লাভস ও মুখোশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে একটি ব্যাগের ভেতরে ফাহিম সালেহর মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়।

হসপিলের আইনজীবী নেভিল মিচেল বলেন, যেসব অভিযোগ তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, আদালতে তার সবগুলোরই বিরোধিতা করেছেন তারা।

আদালত আগামী ১১ জানুয়ারি এ মামলার পরবর্তী তারিখ রেখেছে বলে সিএনএন এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য