ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় টানা বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা।

বিপর্যয়কর এ পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার ভিয়েতনাম উপকূলের দিকে ক্রান্তীয় ঝড় নাংকা অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অক্টোবরের প্রথম থেকে টানা বর্ষণ মধ্য ভিয়েতনামের বেশ কয়েকটি প্রদেশে প্রাণঘাতী বন্য ও ভূমিধসের কারণ হয়েছে এবং কম্বোডিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।

বুধবার ক্রান্তীয় ঝড় নাংকা ভিয়েতনামে আঘাত হানার পর বৃষ্টি ঝরালে সামনের দিনগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হয়ে নাংকা বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তর ও মধ্য ভিয়েতনামের কিছু কিছু অংশে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরাতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।

চলমান বন্যা এরই মধ্যে ভিয়েতনামে অন্তত ২৮ ও কম্বোডিয়ায় ১১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

বন্যায় কম্বোডিয়ার প্রায় ২৫ হাজার ঘরবাড়ি ও ৮৪ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

ভিয়েতনামের এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ থুয়া থিয়েন হুয়েতে একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ প্রকল্পের জায়গায় ভূমিধসের ঘটনায় ১৭ নির্মাণ শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে ১৩ উদ্ধারকর্মীকে সেখানে পাঠানোর পর তাদেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র-পরিচালিত সংবাদপত্র নান দান।

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নগুয়েন জুয়ান ফুক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে থুয়া থিয়েন হুয়েতে আরও উদ্ধারকর্মী পাঠাতে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দেশটির সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তুমুল বৃষ্টি, আরও ভূমিধস এবং পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে পাঠানো উদ্ধারকর্মীরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি বলেও ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য