সমালোচকরা বলছেন, গত জানুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যত পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তার প্রায় সব-ই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেনি, বরং বাড়িয়েছে। তার প্রশাসনও হয়তো একমাত্র প্রশাসন যারা কেবল ভাইরাসের বৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন, বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেননি, তিনি কেবল চীনের ওপরই দোষ চাপিয়েছেন। এমনকি করোনা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্থনি ফাউচির কথাও বিশ্বাস করেননি। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। তার প্রেসিডেন্সি এখন করোনা ভাইরাস প্রেসিডেন্সিতে পরিণত হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত ট্রাম্প সার্কেল

যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউজসহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সার্কেলের অন্তত ৩৪ জন শীর্ষ কর্তা মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া, শীর্ষ উপদেষ্টা হোপ হিকস ও স্টিফেন মিলার, প্রেস সেক্রেটারি কেলেইগ ম্যাকইনানি, রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান রনা ম্যাকড্যানিয়েল, উটাহর সিনেটর মাইক লি, নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর থম টিলিস, ট্রাম্পের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা কেলিয়ান কনওয়ে এবং নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে সুপ্রিম কোর্টে অ্যামি কোনি ব্যারেটের মনোনয়ন অনুষ্ঠানে অনেকেই অংশ নিয়েছিলেন। এই অনুষ্ঠানে আগতদের মধ্যে ৯ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানে বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরত্বেরও বালাই ছিল না। এমনকি ঐ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইউনিভার্সিটি অব নটরডেমের প্রেসিডেন্ট রেভ জন জেমসও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। ঐ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে শুক্রবার ফক্স নিউজকে এমনটি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। বিচারপতির নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানটি ছিল করোনার সুপার স্প্রেডার (যে স্থান থেকে অনেকের মধ্যে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে)।

বিতর্ক বাতিল এবং সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কটিও বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আরেকটি বিতর্কের সুযোগ পাবেন ট্রাম্প এবং বাইডেন। সেটি আগামী ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলেতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাইডেনের প্রচার ম্যানেজারদের দাবি করেছিলেন, প্রথম বিতর্কে ট্রাম্প একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি। বাইডেন সেখানে এগিয়ে আছেন।

তাদের প্রস্তাব ছিল, তাহলে ১৫ তারিখের বিতর্ক বাতিল করে ২২ তারিখ নির্ধারিত তৃতীয় বিতর্ক হোক। সেটাই চূড়ান্ত বিতর্ক হবে। কিন্তু ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২২ তারিখ দ্বিতীয় বিতর্ক হোক। তারপর ২৯ তারিখ তৃতীয় বিতর্কের আয়োজন করা হোক। কিন্তু বাইডেন তা মানতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকায় প্রশ্ন উঠেছে, একজন করোনা রোগী কতদিনে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন? কতদিন পর তার থেকে আর কারো করোনা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না? ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, আমি মনে করি না, আমার থেকে কারো করোনা হতে পারে। আমি একেবারে সুস্থ বোধ করছি। সত্যিই একেবারে ঠিক মনে হচ্ছে নিজেকে। আমি বেরোতে চাই। জনসভা করতে চাই। তিনি স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউজের সামনে জনসম্মুখে বক্তৃতাও দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ১০ থেকে ২০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হয়। তবে কতদিন থাকতে হবে, তা নির্ভর করে সংক্রমণ কতটা জোরালো তার ওপর।

করোনার ছোঁয়া লেগেছে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি এবং ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল জন হাইটেনের। সেলফ আইসোলেশনে যেতে হয়েছে তাদের। কারণ তাদের দুই সহকর্মী কোভিড-১৯-এ সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছেন। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাজের পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। কারণ তাদেরকে মাস্ক পরতেও নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে, এমনকি এ নিয়ে বিদ্রুপও করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য