সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুর বীরগঞ্জের নিরীহ মানুষদের চাকুরী দেয়ার নামে লাখ লাখ অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ এনে খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

১১ অক্টোবর সোমবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি বীরগঞ্জ চকবানারশী গ্রামের মো: হানিফের পুত্র পুস্তুক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীরগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: আবু হানিফ। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখ দিনাজপুর বীরগঞ্জ খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্থ আত্মসাতকারী প্রতারক চক্রের মূল হোতা প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, তার ভাই আব্দুল কাদের ও তার খাস-চামচা আব্দুর রউফ মুন্সী এবং অত্র এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকা ধার/কর্য নিয়ে টাকা আতœসাতকারী মাতা-পুত্র মাজেদা খাতুন ও আতিকুর রহমান, অটো চালক খায়রুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রসুল আলীসহ শাহজাহান আলীগণ আমার বিরদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। যা অন-লাইন, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত “দিনাজপুর বীরগঞ্জে সুদারুদের অত্যাচারে শিক্ষক ও প্রবাসী পরিবার হুমকির মুখে” শিরনামে একটি সংবাদ আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

সংবাদে যা প্রচার করা হয়েছে তাহা আদৌ সত্য নয়, ভিত্তিহিন,বানোয়াট এবং আমার সম্মানহানিসহ পাওনা টাকা আতœসাত করবার উদ্দেশ্যেই সংবাদ পরিবেশন করেছে।

আমি উক্ত সংবাদের উপযুক্ত তথ্য প্রমান চাই নতুবা তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা নিবো। গত ১১ অক্টোবর দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বীরগঞ্জের মোঃ সোহেল রানার আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, গত তিন বছর পূর্বে দিনাজপুর বীরগঞ্জ খলসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকÑ মোঃ ইসমাইল হোসেন আমার স্ত্রী মোছাঃ জিয়াসমিনকে তাহার বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কামÑ কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে নিয়োগ দিবেন মর্মে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের জন্য আমার নিকট হতে ৬,৩০,০০০/Ñ (ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় ক্ষেপন করতে থাকলে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। ২৮ জুলাই-২০১৯ অত্র বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতির আহবানে এক সমঝোতা বৈঠকে তিনি আমাকে ২,০০,০০০/Ñ(দুই লক্ষ) টাকা ফেরত দেন।

বাকী ৪,৩০,০০০/Ñ(চার লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা ১০ আগষ্ট-২০১৯ তারিখের মধ্যে ফেরত দিবেন মর্মে হাজিরান মজলিশে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেকের স্ব-হস্তে লিখিত অঙ্গিকার নামায় উভয়েই স্বাক্ষর করি। প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী ১০ আগষ্ট-২০১৯ তারিখ বাকী ৪,৩০,০০০/Ñ(চার লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা তার নিকট চাইলে তিনি আমার স্ত্রী মোছাঃ জিয়াসমিনকে উক্ত পদে চাকরি দিবেন বলে পূনঃরায় আশ্বাস প্রদান করেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের জন্য মোট ১০,০০,০০০/Ñ (দশ লক্ষ) টাকা চান। আমি তাকে ০৮ সেপ্টেম্বর-২০১৯ আরোও ৫,৭০,০০০/Ñ(পাঁচ লক্ষ সত্তুর হাজার) টাকা প্রদান করি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ক্ষেপন করতে থাকলে আমি তার নিকট আমার পাওনাকৃত সর্বমোট ১০,০০,০০০/Ñ (দশ লক্ষ) টাক ফেরত চাইলে তিনি ০১ র্মাচ-২০২০ তার একক স্বাক্ষরিত বিদ্যালয় নামীয় চেকের পাতায় এবং ৮ মার্চ-২০২০ তার নিজ নামীয় একটি চেকের পাতায় আমার স্ত্রী মোছাঃ জিয়াসমিন-এর নাম লিখে তা আমাকে প্রদান করেন।

তার হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না থাকায় আমি বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেনকে আসামী করে বিজ্ঞ জেলা দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-২ এ নিগোশ্যাবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট (সংশোধিত ২০০৬) এর ১৩৮ ধারায় ১০,০০,০০০/Ñ(দশ লক্ষ) টাকার মামলা দায়ের করি।

বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন। ১৪ মার্চ-২০২০ তিনি বীরগঞ্জ থানায় আমার বিরুদ্ধে চেকের পাতা ছিনতাইয়ের একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন। বীরগঞ্জ থানা অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোন সত্যতা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আমার পক্ষে চুরান্ত প্রতিবেদন পাঠান।

১ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সময় ক্ষেপনের কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল হয়ে গেলে ২য় বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহবান করলে অনেক প্রার্থীই দরখাস্ত করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেকের যোগসাজসে তার নিজ পছন্দনীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সকল প্রার্থীদের না জানিয়ে গোপনে পরীক্ষা নেন।

অতঃপর উক্ত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জন্য জেলা দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে যাহার মামলা নং ৩৫/২০ অন্য। মামলাটি শুনানীর জন্য চলমান রয়েছে। এমনকি তিনি তার বিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি জনাব, মোঃ ইসমাইল হোসেন-এর নামে যে সংবাদ পরিবেশন করেছেন তা ডাহা মিথ্যা।

কেননা, তিনি একজন সম্মানী ব্যাক্তি, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি, গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার সু-নাম ধন্য পুস্তক ব্যবসায়ী। প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং তার সম্পর্কীয় আতœীয় মাতা-পুত্র মাজেদা খাতুন ও আতিকুর রহমান অত্র এলাকার বিভিন্ন লোকের নিকট হতে টাকা ধার/কর্য নেন।

পরবর্তীতে নিজ নামীয় চেকের পাতায় টাকার পরিমান উল্লেখ করে দিয়ে ব্যাংকে পাঠান। কিন্তু ব্যাংকে তার একাউন্টে তিনি সামান্য পরিমান টাকা ছাড়া কোন টাকাই জমা রাখেন না।

তারা দির্ঘদিন যাবত এভাবেই প্রতারনা করে আসছে। আতিউর রহমান পুস্তক ব্যবসায়ী মোঃ ইসমাইল হোসেন এর নিকট তার নিজ নামীয় দুটি চেকের পাতায় টাকার পরিমান উল্লেখ করে ও অঙ্গিকার নামা প্রদান করে দুই কিস্তিতে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা ধার/কর্য নেন।

তিনিও একইভাবে প্রতারনার স্বীকার হয়ে মোঃ আতিউর রহমানকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। মোঃ আতিউর রহমান এর মাতা মোছাঃ মাজেদা খাতুনও পিকপাড়ার আঃ রশীদের নিকট হতে ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ধার/কর্য নেন। তিনিও বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছেন যা বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে পাওনাদারগণ শেষ সম্বল হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। তাই প্রতারকরা স্থানীয় প্রভাবশালীর যোগসাজগে উক্ত টাকাগুলো আতœসাতের উদ্দেশ্যেই একজোট হয়ে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন প্রকার কলা-কৌশল করছে।

আমি উক্ত প্রতারকদের নিকট হতে পাওনাদারদের সমুদয় টাকা উদ্ধারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা চাচ্ছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো: সোহেল রানা চমক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য