দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর থেকে ৪ কিলোমিটার দক্ষিনে সাহেবগঞ্জ মৌজায় করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে এক সময়ের রণ হুস্কারে গর্জে উঠা মধ্যযুগের বৃহত্তম ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দূর্গ।

ধারনা করা হয় ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দুর্গ এগারো শতকে সেন আমলে নির্মিত হয়। গৌড়িয় সুলতান বরবক শাহের সেনাপতি শাহ্ ইসমাইল কামতপুরের রাজার অধিকার থেকে ঘোড়াঘাট জয় করলে প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্বের কারনে ঐতিহাসিক দূর্গটির সংস্কার করে নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়।

সেনা ছাউনিসহ প্রতিরক্ষার প্রচুর অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দূর্গ সমকালীন বাংলার একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ দুর্গের মরযাদা লাভ করে এবং দুর্ভেদ্য ও অজেয় শক্তির কেন্দ্ররূপে গড়ে উঠে। করতোয়া নদীর ধার ঘেঁষে উত্তর দক্ষিণ লম্বা দুর্গটির চারদিক সুউচ্চ মাটির দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত।

এক সময় মাটির দেওয়ালের বাহিরে তিনদিক ২৩ মিটার দীর্ঘ গভীর পরিক্ষা বেষ্টিত ছিল। পূর্বদিকটায় ছিল খাড়া পাড়া বিশিষ্ট খর¯্রােতা করতোয়া নদী। দূর্গটির উত্তর দক্ষিনে লম্বা ও পূর্ব পশ্চিম দেওয়ালের দৈর্ঘ্য অনুরূপ, উত্তর দেওয়াল আধা মাইল এবং দক্ষিণ দেওয়াল প্রায় এক মাইল লম্বা।

ধারনা করা হয় এই সীমানা কেবল দূর্গের কেন্দ্রের। বিশেষ করে দক্ষিণ দিকে আরো প্রলম্বিত ছিল। উত্তর দক্ষিণ ও পশ্চিম ধারে যে পরিখা দেখা যায় তা প্রায় ৬০ ফুট চওড়া। পশ্চিম দেওয়ালে উত্তরাংশে দুর্গের প্রধান প্রবেশ পথ ছিল। প্রধান প্রবেশ পথ থেকে ৪০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দূর্গের ২য় আন্দদেয়াল শুরু।

দূর্গের ভিতরে ছিল প্রশাসনিক ভবন, সেনা ছাউনি, সামরিক কর্মচারীদের বাসভবন, ফৌজদারের ভবন, মসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি। তবে এখন এই দুর্গের পরিখার ওপর ৮/১০ ফুট উচু লাল মাটির প্রাচীর আছে যেগুলো পথিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। মাটির প্রাচীরের ওপরে আগাছা জন্মেছে।

মসজিদের ধ্বংসাবশেষ ও বিক্ষিপ্ত কিছু ঢিবি ব্যতীত তেমস কিছু আর অবশিষ্ট নেই। আগাছার সঙ্গে মিশে গেছে দুর্গের চিহ্নগুলো আস্তে আস্তে বিলীনের পথে এই দুর্গ। তাই স্থানীয়রা মনে করে এখনই আগামী প্রজন্ম ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করতে এই স্মৃতি চিহ্ন রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য