ডনাল্ড ট্রাম্প অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় আগামী ১৫ অক্টোবর জো বাইডেনের সঙ্গে তার দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্ক বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় বিতর্কটি ‘ভার্চুয়ালি’ হওয়ার কথা ছিল।

তবে বিতর্কে অংশ না নিলেও শনিবার থেকে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের বারান্দা থেকেই সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন। ওই সমাবেশের থিম ‘ল অ্যান্ড অর্ডার’। এদিন মাস্ক পরে কয়েকশ সমর্থক হোয়াইট হাউজের লনে হাজির থাকবেন বলেও জানা গেছে।

তারপর আগামী সোমবার ফ্লোরিডায় যাবেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটে। ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি ফ্লোরিডা।

গত ১ অক্টোবর মধ্যরাতের পর এক টুইটে ট্রাম্প নিজেই তার ও তার স্ত্রীর কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ হওয়ার কথা জানান।

চিকিৎসার জন্য তাকে তিন রাত হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। তবে তিনি এখন ‘ভালো আছেন’ বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক ডা. শন কনলি। শুক্রবার পুনরায় ট্রাম্পের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার কথা ছিল।

ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় মিয়ামিতে ট্রাম্প-বাইডেন দ্বিতীয় প্রেসিডেন্টশিয়াল বিতর্ক সরাসরি আয়োজন না করে ‘ভার্চুয়ালি’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাম্প ‘ভার্চুয়াল’ বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হননি। তিনি একে ‘সময় নষ্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন।

আগামী ২২ অক্টোবর দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় এবং চূড়ান্ত বিতর্ক হওয়ার কথা। তৃতীয় বিতর্কের ভবিষ্যত নিয়েও এখনো ‍অনিশ্চয়তা কাটেনি।

কারণ শুক্রবারের পরীক্ষায় কী ফলাফল এসেছে তা এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ফক্স নিউজ-র সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, এদিন আবার তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কী ফল এসেছে তা তিনি জানাননি।

তবে তিনি বলেন, তিনি এখন আর কোনো ওষুধ গ্রহণ করছেন না। ‘‘আমি সত্যিই নিজের ভেতর খুব শক্তি পাচ্ছি।”

ট্রাম্প এবং তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হওয়ার কারণে রিপাবলিক শিবিরের নির্বাচনী প্রচার-সমাবেশ প্রায় থমকে গিয়েছিল। তহবিল সংগ্রহের কাজও বন্ধ ছিল।

ফ্লোরিডার সমাবেশের মাধ্যমে আবার সব শুরু হতে যাচ্ছে। সমাবেশে অংশ নিতে মাস্ক পরে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে সমাবেশ স্থলে ঢুকতে দেওয়া হবে, হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্তও করতে হবে।

কোভিড-১৯ ‘নেগেটিভ’ হওয়ার আগেই তাড়াহুড়ো করে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শুরু করা নিয়ে অনেকেই সমালোচনায় মেতেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনও কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মক সুরে ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘ভাগ্য আপনার সহায় হোক। তবে যদি আপনি মাস্ক না পরেন এবং দূরত্ব বজায় ‍না রাখেন তবে আমি আপনার সামনে যাচ্ছি না।”

ট্রাম্পের অসুস্থ থাকার সময় বাইডেন নিজের নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে গেছেন।

রয়টার্সের নতুন একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মাহমারী নিয়ন্ত্রণ এবং এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতে যে সংকট দেখা দিয়েছে তার ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে আমেরিকার জনগণ ট্রাম্পের উপর আস্থা হারিয়েছেন এবং তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা কমে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য