আগস্টের ভয়াবহতার পর বৈরুতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত চারজন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার বৈরুতের তারিক-আল-জিদে জেলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার পর এ বিস্ফোরণ ঘটে। টেলিভিশনের ফুটেজে সরু গলির মধ্যে থাকা ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ভবনগুলোতে আটকেপড়া বাসিন্দাদের বের করে আনতে উঁচু মই ব্যবহার করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

এদিন বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাজুড়ে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক নারী টুইটারে লিখেছেন, ‘শব্দ আর ঘরের কাঁপুনি আমাদের সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। আর আমি যে গলিতে থাকে সেখানে সবাই চিৎকার করছিল। আমার পুরোনো কথা মনে পড়ছিল।’

গত ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরের একটি গুদামে প্রথমে আগুন, এরপর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গুদামটিতে ২ হাজার ৭৫০ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রায় ছয় বছর ধরে মজুত ছিল বলে জানা গেছে। শক্তিশালী ওই বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় অর্ধেক শহর। এতে প্রাণ হারান প্রায় ২০০ মানুষ, আহত হন অন্তত সাড়ে ছয় হাজার। বিস্ফোরণে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বন্দরে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে এখনও তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনার মাত্র ছয়দিনের মাথায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় লেবানিজ সরকার। তবে বিপদ সেখানেই শেষ হয়নি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে লেবাননের রাজধানীতে। তবে এসব ধ্বংসযজ্ঞের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য