যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন ‘কড়া ভাষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়কে সামনে রেখে এটিই পুতিনের প্রথম কোনও মন্তব্য। পুতিন তার বক্তব্যে বাইডেনের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করতে ভোলেননি।

আবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাইডেনের কথা উৎসাহব্যাঞ্জক জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই রাশিয়া কাজ করতে প্রস্তুত বলেও পুতিন মন্তব্য করেছেন।

বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বক্তৃতায় পুতিন বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীর ক্ষেত্রে…. আমরা এও দেখছি যে, তিনি বেশ কড়া ভাষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে বলছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এসবে অভ্যস্ত।”

বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বক্তৃতায় পুতিন বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ব্যাপারে…. আমরা এও দেখছি যে, তিনি বেশ কড়া ভাষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে বলছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এসবে অভ্যস্ত।”

ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসায় পুতিন বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) সব সময় মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অবশ্যই আমাদের কাছে তার এ ইচ্ছার দাম আছে।”

রাশিয়া ট্রাম্পকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চায়, এ কথা নতুন নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে, এই অভিযোগও অনেক দিনের। পুতিন এদিন আবারও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ শীর্ষ রুশ কর্মকর্তারা এবারও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে বাইডেনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা করছেন- মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত অগাস্টে এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছে বলে গতমাসেই এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন বর্তমান এবং সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

আর জো বাইডেনও গত জুলাইয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের তৎপরতা চালাচ্ছে। এ নিয়ে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন। বাইডেনের ওই কথার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বুধবারের টিভি ভাষণে তাকে নিয়ে মুখ খুললেন।

তবে বাইডেনের সমালোচনা করলেও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থীর অবস্থানের সঙ্গে পুতিন একমত প্রকাশ করেছেন।

পরমাণু অস্ত্রের পরিমাণ ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

‘নিউ স্টার্ট’ নামের ওই চুক্তিকে চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার পথে নতুন পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

কিন্তু ওয়াশিংটন ও মস্কো এখনও নতুন চুক্তি বা বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

পুতিন বলেন, ‘‘বাইডেন জনসম্মুখেই বলেছেন, তিনি ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন চুক্তি করতে প্রস্তুত আছেন…ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্কে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপসঙ্গ হয়ে উঠবে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য